খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা থেমে থেমে এখনো অব্যাহত আছে। রবিবার বিকেলে শহরের কলেজ রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কাছে সর্বশেষ সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এ সহিংসতায় জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক জানু সিকদার (নৌকা প্রতীকের সমর্থক) প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন। আহত শ্রমিক লীগ নেতা জানু সিকদারকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে সেখানে তাকে দেখতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও দলীয় নেতা-কর্মীরা।
জানু সিকদারের উপর সন্ত্রাসী হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ সরকারি দল ও মেয়র গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় । এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিভিন্ন গলিতে মহড়া দিতে শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে শহর জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দোকান-পাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাত পৌনে আটটা নাগাদ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। রাত সাড়ে এগারটায় শহরের আইন-শৃ্খংলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকল প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মানব-বন্ধন ও মাইকিংয়ের উপর অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান।
এদিকে এ ঘটনার জন্য জেলা আওয়ামী লীগ পৌর মেয়র রফিকুল আলম গ্রুপকে দায়ী করলেও মেয়র তা ভিত্তিহীন উল্লেখ করে উল্টো সরকারি দলের লোকজন হামলা চালিয়ে পৌরসভা কার্যালয়ের ভিতরে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কয়েকটি দোকানের ক্ষতিসাধন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ জানায়, মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেয়াকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি ও সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম বিভক্ত হয়ে পড়েন। সেই থেকে প্রায়ই খাগড়াছড়িতে দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা-মামলার ঘটনা ঘটে আসছে।
