নেদারল্যান্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালিত

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৬, ১৮:২৬
নেদারল্যান্ডসের হেগ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।দূতালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেদারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করেন।
 
স্বাধীনতা দিবসের প্রত্যুষে দূতাবাস প্রাঙ্গনে রাষ্ট্রদূত কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। অত:পর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে কিছু অংশ পাঠ করা হয় এবং জাতির পিতা ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী সমূহ পাঠ করা হয়। অত:পর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য বিষয়ে এক প্রানবন্ত আলোচনার সূত্রপাত ঘটে।
 
আলোচনা অনুষ্ঠানে আলোচকবৃন্দের সকলে স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্থানীয় দি হেগ বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক গোলাম রব্বানী তাঁর আলোচনায় আত্মসমালোচনার সূরে স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বুদ্ধিজীবি সমাজের দায়িত্বের প্রতি আলোকপাত করেন এবং আগামী প্রজন্মকে জাতি গঠনে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশী প্রবাসী সমাজের সম্মানিত সদস্য বাবুল মিয়া মহান স্বাধীনতা দিবসকে নিয়ে স্বরচিত একটি কবিতা আবৃত্তি করে সকলকে স্পর্শ করেন। প্রবাসী বাংলাদেশী মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন তপন বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধুর আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।
 
রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল তাঁর বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি দেশে মূল্যবান রেমিট্যান্স প্রেরণের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও চিন্তা-চেতনার বিস্তার ঘটানোর মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহনের আহ্বান জানান। তিনি দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা পরবর্তীকালে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্য বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত এরই ধারাবাহিকতায় অর্থনীতি ও তথ্য-প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন খাতে জাতির সাম্প্রতিক অর্জন সমূহের কথা তুলে ধরেন।
 
অনুষ্ঠান শেষে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। সবশেষে সকলকে বাংলাদেশি খাবারে অতিথিবৃন্দকে আপ্যায়িত করা হয়।
 
২৬ মার্চ ইস্টারের ছুটি থাকায় আগামী ২৯ মার্চ বাংলাদেশ হাউজে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে যেখানে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কূটনৈতিক কোরের সদস্যবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।