সাধারণভাবে প্রতিবন্ধী মনে করা হলেও তাদের বলা হয় ‘স্পেশাল চাইল্ড’। কেন বলা হয় তা চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন তারা। শারীরিক, মানসিক বাধাকে অতিক্রম করে অসামান্য অভিনয়শৈলী প্রদর্শন করলেন তারা। তাক লাগিয়ে দিলেন দর্শকদের। বোঝালেন তারা সত্যিই ‘বিশেষ’ গুণের অধিকারী। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মঞ্চে উইলিয়াম শেক্সপিয়রের রোমিও জুলিয়েট নাটকটি মঞ্চস্থ করলেন এই শিল্পীরা।
এবছরের কমনওয়েলথ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ইনক্লুসিভ কমনওয়েলথ অর্থাৎ সকলের অন্তর্ভুক্তি। প্রতিবন্ধী বাংলাদেশি শিল্পীদের পরিবেশনা সেই অন্তর্ভুক্তির উদাহরণ এবং একইসঙ্গে আমাদের জানান দিলো যে, কোন অজুহাতেই কাউকে পিছনে ফেলে রাখা যাবে না। এই প্রযোজনা শুধু শিল্প নয়; সকল ক্ষেত্রেই আমাদের কাছে প্রেরণা হয়ে উঠবে।
উইলিয়াম শেক্সপিয়রের কালজয়ী সৃষ্টি রোমিও জুলিয়েট। মানুষের কাছে এর আবেদন চিরকালীন। তবে ঢাকায় এই মঞ্চায়নের আঙ্গিকে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে সাজানো হয়েছে প্রযোজনাটি। নাম ‘এ ডিফারেন্ট রোমিও এ্যান্ড জুলিয়েট’।
উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ৪০০তম প্রয়াণবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখতে ঢাকা থিয়েটার ও যুক্তরাজ্যের গ্রায়ে থিয়েটারের সঙ্গে যৌথভাবে প্রযোজনাটি মঞ্চস্থ করল ব্রিটিশ কাউন্সিল। খ্যাতিমান সাহিত্যিক দেবেশ রায়ের অনুবাদ থেকে নাটকটির প্রাথমিক ভাবনা আসে নাসির উদ্দিন ইউসুফের কাছ থেকে। তবে এই কালজয়ী নাটকের এত কিছু পরিবর্তনের চাইতে সবকিছু ছাপিয়ে মানুষকে আলোড়িত করেছে তার কুশীলবরা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তুলে আনা শারীরিক, দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা হয়েছেন এই নাটকের কুশীলব। ভিন্নভাবে সক্ষম এই মানুষগুলোর শরীরী প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অভিনয়ের গুণে অনবদ্য হয়ে ধরা দিয়েছে প্রযোজনাটি। ১৪ জন মেধাবী প্রতিবন্ধী শিল্পী নাটকটি মঞ্চায়ন করে।
ঢাকা থিয়েটারের পরিচালক নাসির উদ্দিন ইউসুফের প্রযোজনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন গ্রায়ে থিয়েটারের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর জেনি সিইলি। সহযোগী শিল্প নির্দেশকের দায়িত্বে ছিলেন এশা ইউসুফ। সহকারী কারিগরি নির্দেশনায় ছিলেন ইশরাত নিশাত।
