লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলির উপশহর মিশকাতা থেকে অপহৃত দুই বাংলাদেশি শ্রমিক আসাদ ও রিপনকে উদ্ধার করেছে লিবিয়া পুলিশ।
গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার দিকে মিশরাতা উপশহরের একটি বাজার এলাকা থেকে এ দুজনকে ধরে নিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা।
এরা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গড়গাঁও গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান রাসেল (২৪) ও মুন্সীগঞ্জ জেলার রিপন (২২)।
উদ্ধার হওয়ার পর আসাদ টেলিফোনে তার বাবা আব্বাস আলীকে জানান, তাদেরকে আইএস জঙ্গীর কোন সদস্য অপহরণ করেনি। তবে যুদ্ধের অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী বহিরাগত শ্রমিকদের প্রায়শই অপহরণ করে এবং কিছু টাকা পয়সা আদায় করে তাদের ছেড়ে দেয়।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশী আরো ৩ শ্রমিক, ভারতীয় ২ জন এবং শ্রীলংকান ৫ শ্রমিককে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে এবং তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে লিবিয় ২ হাজার টাকা করে নিয়ে ছেড়ে দেয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে, তারা মারধর ও নির্যাতন করে।
গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২ টার দিকে লিবিয়ার মিশরাতা উপশহরের একটি বাজারের পাশ থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায় ওই সন্ত্রাসীরা। অপহরন হওয়া এই দুই যুবক হলেন ঠাকুরগাওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গড়গাঁও গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান রাসেল (২৪) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার রিপন (২২)।
উদ্ধার হওয়া রিপন টেলিফোনে জানায় এই তিনদিন তাদের দুইজন সহ ভারতীয় ও শ্রীলংকার মোট ৭ জনকে মিশরাতা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। তারা অপহরন হবার পরে বিষয়টি তাদের রুমমেট শাহীন, তবারুল সহ আল-মদিনা লিমিটেড এর মালিক পক্ষ স্থানীয় পুলিশকে জানায়।
রিপন জানান, অপহরনের পরে তাদের কাছ থেকে অপহরনকারীরা ১০ হাজার লিবিয়া দিনার মুক্তিপণ দাবি করে। পরের দিন থেকে পুলিশের তৎপরতার কারণে কারো সঙ্গে তাদের ফোনে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি। সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২ টার দিকে পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের দুজন সহ ভারতীয় ও শ্রীলংকার ৭ জনকে উদ্ধার করে মিশরাতার ক্যারাং থানায় আনা হয়। সেখান থেকে আল-মদিনা গ্রুপের কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়ে আসে।পুলিশের অভিযানের সময় তাদের সঙ্গে থাকা ৫ জন সন্ত্রাসী অপহৃতদের ঘরে আটকে রেখে তালা মেরে পালিয়ে যায়। পুলিশ তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে।
আসাদ জানায়, মিশরাতা শহরে আইএস জঙ্গীদের দ্বারা এখনো আক্রান্ত হয়নি। তবে যুদ্ধের কারনে ও এই সুযোগ নিয়ে কিছু সন্ত্রাসীর কারণে এই জায়গাটিও বহিরাগত শ্রমিকদের জন্য ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আসাদের মা আলেমা খাতুন সরকারের তৎপরতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, উদ্ধার হওয়া ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে, সে ভাল আছে।
