নিউজিল্যান্ড হত্যাকাণ্ডে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৯, ২১:২৯

মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ

নিউজিল্যান্ডের দুইটি মসজিদে যারা হত্যকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে ছিল তারা ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য প্লাটফর্ম ব্যবহার করেছিল। এখানে আরো অনেক বিষয় রয়েছে। যেমন- বছরের পর বছর ধরে টেক জায়ান্টগুলো তাদের ব্যবসা বাড়িয়ে চলেছে কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়ে তার ততটা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।

নিউজিল্যান্ডের মসজিতে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর, ১৭ মিনিটের একটি ভীতিকর ভিডিওতে দেখা গিয়েছে যে, হত্যাকারী একটি বন্দুক দিয়ে মানুষের শরীরে গুলি করছে। এখনো ইউটিউবে এই ভিডিওটি পাওয়া যেতে পারে।

ওয়াশিং পোস্টের প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদক ড্রিউ হারওয়েল একটি টুইটের মাধ্যমে সংক্ষেপে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুর্যোগের কথা তুলে ধরেন। পোস্টটিতে তিনি লিখেন,‘নিউজিল্যান্ডের গণহত্যার লাইভ স্ট্রিম ফেসবুকে ছিল। ওই ভিডিওতে ঘোঘণা করেছে যে, ভিডিওটি ইউটিউবেও পোস্ট করা হয়েছে।’  তিনি মার্কিন সংস্থা রিডিট সম্পর্কেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের দুইটি মসজিদে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। হত্যাকারী নিজেই তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ প্রচার করেছে। এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়াতে কিছুক্ষণ পরেই টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো হত্যাকারীর অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার যুদ্ধে নেমেছে। কিন্তু ভিডিওটি বিভিন্ন সাইটে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়,  হত্যা অভিযানে অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ফেসবুক, টুইটার ও গুগলের ইউটিউবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সকলেই আক্রমণের আসল ভিডিও রিমুভ করে দিয়েছে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরও মানুষ জানাচ্ছে যে, তারা এখনো এই প্লাটফর্মগুলোতে ওই ভিডিওটি খুঁজে পাচ্ছেন।

টুইটার আসল ভিডিওটি সরিয়ে দিয়েছে এবং জানিয়েছে, যে অ্যাকাউন্ট থেকে এটি পোস্ট করা হয়েছিল সে অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করে রাখা হয়েছে। এছাড়াও অন্য যে অ্যাকউন্টগুলো থেকে পরবর্তীতে পোস্ট করা হয়েছিল তা মুছে ফেলার কাজ চলছে। এ বিষয়ে টুইটার কর্তৃপক্ষ আরো বলছে, ওই অ্যাকাউন্ট ও ভিডিও দুই-ই তাদের নীতি লঙ্ঘন করেছে।

টুইটারের একজন মুখপাত্র তার বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ক্রাইস্টচার্চের এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’  তিনি আরো বলেন, ‘টুইটারের একটি নিয়মিত ও দক্ষ দল রয়েছে যারা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পারদর্শী। আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে একত্রিত হয়ে কাজ করি এতে করে কাজ অনেকটা সহজ হয়।’

ফেসবুকও তাদের প্লাটফর্ম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে দিয়েছে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কনটেন্টগুলো সরিয়ে দিতেও কাজ করছে তারা।

ফেসবুক এর নিউজিল্যান্ড অফিসের মিয়া গার্লিক বলেন, ‘লাইভ স্টিমিং শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ কর্তৃক আমাদের সতর্ক করা হয়েছে। আমরা দ্রুত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাইন্ট থেকে হামলাকারীর ভিডিও সরিয়ে ফেলেছি।’  তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ওই শ্যুটারকে প্রশংসা করছে এমন কনটেন্ট পেলেও তা অপসারণ করতে কাজ করছি। আমরা এই ঘটনার অনুসন্ধানের জন্য নিউজিল্যান্ড পুলিশের সঙ্গে একত্রিত হয়ে কাজ করে যাব।’ 

শুক্রবার বিকালে আলাদা আর একটি বিবৃতিতে গার্লিক বলেন,‘ ফেসবুকে এই ভিডিও যুক্ত করা হয়েছে যা তাদের নীতিকে লঙ্ঘন করেছে। অভ্যন্তরীণ ডাটাবেজ এর সহায়তায় আগামীতে যদি কেউ এই ভিডিওটি আপলোড করে তবে তা অটোমেটিক রিমুভ করে দেওয়া হবে।’

ফেসবুক তাদের লাইভ ভিডিও স্টিমিং এর  অপব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে আগে থেকেই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে। যা তারা সম্প্রতি প্রয়োগ করেছে। ২০১৭ সালে  ফেসবুক এমন ভিডিও শনাক্ত করেছিল যেগুলোতে ব্যবহারকারীরা আত্মহত্যার চিন্তা প্রকাশ করেছিল। এতে প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে।

বেশ কয়েকজন টুইট করেছে যে, তারা ঘটনাটির ১২ ঘণ্টা পরও ইউটিউব থেকে ভিডিওটি পেয়েছে। যদিও ইউটিউব বলছে,  তারা মূল ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেছে।

ইউটিউবের একজন মুখপাত্র বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘ আমাদের প্লাটফর্মে জঘন্য, সহিংসতা ও মিথ্যা কনটেন্টের জায়গা নেই। এ ধরনের কনটেন্ট সম্পর্কে আমরা যত তাড়াতাড়ি জানতে পারি তত তাড়াতাড়ি সেটিকে সরিয়ে ফেলি। বড় ধরনের কোনো ট্রাজেডি হলে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একত্রিত হয়ে কাজ করব।’

শুক্রবার বিকালে, আমেরিকান সোশ্যাল নিউজ এজেন্সি রিড্ডিট সহিংসতা ও উত্সাহিত করার জন্য এই ভিডিউটি নিষিদ্ধ করেছিল। এর আগের দিনও ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াতেছিল। নিউজিল্যান্ড পুলিশের অনুরোধে শুক্রবারের ভিডিওটির মতো ভিডিওগুলো ও এর লিংকগুলো সরিয়ে নিয়েছে।

রিডিট এর পক্ষ থেকে একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সক্রিয়ভাবে নিউজিল্যান্ডের ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছি। ভিডিও স্টিমিং লিংক ধারণকারী কনটেন্ট ও  নীতি লঙ্ঘন করে এমন তথ্য পেলে আমরা তা সরিয়ে ফেলতে কাজ করছি।’

সূত্র : সিএনবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট