ভাগ্যের চাকা ঘোরানো গেল না

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৯, ২১:৩৫

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ

স্পোর্টস রিপোর্টার

অনেক চেষ্টা ছিল। যেভাবেই হোক সেমিফাইনালে ভারতে এড়িয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ যদি সেমিফাইনালে ভারতকে পায় তাহলে ফাইনালের যাওয়ার সুযোগটা ক্ষীণ হয়ে যাবে। ভারত শক্তিশালী দল। নারী সাফের গত চার আসরের চ্যাম্পিয়ন। তিনবার ফাইনাল খেলেছে নেপাল। একবার ফাইনাল খেলছে বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ ভালোভাবেই জানত ভারতের দলকে টপকে যাওয়া কঠিন। ‘এ’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে অন্য গ্রুপের প্রবল সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ভারতের মুখোমুখি হতে হবে না। বাংলাদেশ চেয়েছিল নেপালকে হারিয়ে ভারত বাধা এড়িয়ে যেতে। কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘোরানো গেল না। নেপালের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে বাংলাদেশকে এখন ‘বি’ গ্রুপে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। আজ ‘বি’ গ্রুপের শেষ খেলায় ভারত ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচের উপর নির্ধারণ হবে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নেপাল এবং গ্রুপ রানার্সআপ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ।

শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের সেমিফাইনাল আগেই নিশ্চিত হয়ে আছে। বিদায় হয়ে গেছে গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট মালদ্বীপের।

ভারত গোল গড়ে এগিয়ে রয়েছে। ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। আর শ্রীলঙ্কাকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হলে জয় পেতে হবে। লঙ্কান ফুটবল দলের জন্য এটা কঠিন। কারণ ফেভারিট ভারত চাইবে না তারা লঙ্কানদের কাছে হেরে যাক। যদি এমন হয় ভারত হেরে গেল। তাহলে বাংলাদেশের সানজিদা, সাবিনা, তহুরা, মনিকাদের ভাগ্যটাও ঘুরে যাবে। কারণ ভারতের চেয়ে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক দল। এখন আর এসব ভেবে সময় নষ্ট করতে চান না কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট মনে সেমিফাইনাল মোকাবিলা করার অপেক্ষায় রয়েছেন ছোটন। কিভাবে ফাইনালে উঠা যায় তা নিয়েই ভাবনা।

নেপালের বিপক্ষে এবারও ভালো কিছু করা গেল না। তবে এবার ভাগ্যটা আরো বেশি খারাপ মনে করছেন ছোটন। বিরাটনগর শহীদ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামের মাঠে নেমে গুছিয়ে উঠার আগেই আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। মাত্র ৬ মিনিটে নেপালের আক্রমণ ঠেকাতে মাসুরা পারভিন বল ক্লিয়ার করতে গেলে হেডের বল নিজেদের জালে ঢুকে যায় ০-১। অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ছাড়া দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ই অনূর্ধ্ব-১৬ বছর বয়সের। আর নেপালের খেলোয়াড়দের বয়স গড়ে ত্রিশের কোটায়। অভিজ্ঞতা এবং বয়স, দুই দিকেই বাংলাদেশের মনিকা, মারিয়া, তহুরা, আঁখীরা অনেক অনেক পিছিয়ে। এই মেয়েদের মূল শক্তি হচ্ছে আত্মবিশ্বাস এবং সাহস। আত্মঘাতী গোলে মেয়েরা মানসিক ভাবে নড়বড়ে হয়ে যায়। প্রায় ৫ হাজার দর্শকের মাঠে রোনালদোর স্টাইলের ফরোয়ার্ড সাবরিতা ২৩ মিনিটে এবং মাজালি কুমারী ২৮ মিনিটে গোল করেন ৩-০।  বিরতীর পর আর নেপাল চেষ্টা করেও গোল সংখ্যা বাড়াতে পারেনি। বাংলাদেশ লড়াই করে।