সাধারণ বাঙালির অসাধারণ নেতা

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৯, ২২:০১

মোহাম্মদ শরীফ

২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পর পশ্চিম পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালী কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধুকে ৯ মাস ১৪ দিন বন্দি রাখা হয়। বঙ্গবন্ধুকে যে কারাগারে রাখা হয়েছিল, তার সামনে একটা কবর খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। সামরিক আদালতে বঙ্গবন্ধুর ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছিল আগেই। ইয়াহিয়া খানের এজেন্ট বঙ্গবন্ধুকে বলল, যদি মুক্তিযুদ্ধ বন্ধ করার আদেশ না করো, তোমাকে ফাঁসি দিয়ে কারাগারের সামনের গর্তে কবর দিয়ে দিব। তখন বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খানের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘কবরকে আমি ভয় পাই না। জানি ওরা আমাকে ফাঁসি দিবে (কেননা সামরিক আদালতে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে)। কিন্তু আমি জানি, আমার বাংলাদেশ একদিন স্বাধীন হবে। আমি এও জানি, বাংলার দামাল ছেলেরা হাসিমুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে, সেই বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। শুধু একটা অনুরোধ, আমাকে হত্যা করে এই কবরে না, আমার লাশটি আমার বাংলার মানুষের কাছে পাঠিয়ে দিও’।

বঙ্গবন্ধু বাঙালি, বাংলাদেশকে অনেক ভালবাসতেন। একবার যার সঙ্গে দেখা হয়েছে তাকেই মনে রেখেছেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু একবার কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এসেছিলেন। তিনি গোমতী নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে থাকেন আর কৃষক-শ্রমিকদের সঙ্গে কোলাকোলি করেন। বঙ্গবন্ধুকে দেখতে সাধারণ মানুষের তখন ঢল নেমেছিল। বঙ্গবন্ধু নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করেই সাধারণ মানুষের মাঝে চলে যান। ময়লা কাপড় পরা মুখভর্তি দাড়ি একটা লোক দেখে বঙ্গবন্ধু থেমে যান। লোকটাকে নাম ধরে ডেকে কাছে নিয়ে কোলাকোলি করেন। লোকটির পিঠে হাত রেখে, তার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। পরে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘এই লোকটি রাতের অন্ধকারে একদিন আমাকে নৌকায় করে আগরতলায় দিয়ে আসছিল।’ বঙ্গবন্ধু একবার যার সঙ্গে মিশেছেন, তাকে কখনো ভুলেননি। এমন কি তিনি নামও মনে রাখতে পারতেন। সে যত ছোট নেতা বা সাধারণ মানুষই হোক। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে, অনেক নেতাই বঙ্গবন্ধুকে গণভবনে চলে যেতে বলেন।  কমিউনিস্ট নেতা মণি সিং একবার নিরাপত্তার কথা ভেবে বঙ্গবন্ধুকে গণভবনে চলে যেতে বলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু যাননি। উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাঙালি আমাকে মারবে না। ওরা আমাকে পাহারা দেয়’। এতটাই আত্মবিশ্বাস আর ভালবাসা ছিল বাঙালির প্রতি তাঁর। দুঃখের বিষয় হলো, সেই বাঙালির হাতেই বঙ্গবন্ধুকে প্রাণ দিতে হলো। আসলে এরা বাঙালি নয়, নিকৃষ্ট বাঙালি। এদের বাঙালি বললে মহত্ বাঙালি জাতিকে কলঙ্কিত করা হবে। কারণ বাঙালির আছে গৌরবের ইতিহাস আর ঐতিহ্য। কারণ বঙ্গবন্ধু বাঙালি। বাংলাদেশ তাঁর জন্মের অর্ধশত বছরের দ্বারপ্রান্তে। বঙ্গবন্ধুর হতে চলেছে শততম জন্ম বার্ষিকী। বঙ্গবন্ধুকে এখনো দেশের না ভেবে, একটি দলের বঙ্গবন্ধু হিসেবে ভাবা হয়। এই মনোভাব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। দিতে হবে সর্বোচ্চ সম্মান। বঙ্গবন্ধু সম্মান পেলে, বাংলাদেশ সম্মানিত হবে। তখন বহির্বিশ্বও বাংলাদেশকে সম্মানিত জাতি হিসেবে ভাবতে শুরু করবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা