কামেল পীর শরীয়ত উল্ল্যার নামানুসারে মহকুমার নাম রাখা হয় শরীয়তপুর। ১৯৭৭ সালের ৪ নভেম্বর নবগঠিত এই মহকুমা উদ্বোধনের পর ১৯৮৪ সালের ৭ জুন জেলা হয়। শুরু থেকে অন্য মহকুমাগুলিতে কিছু না কিছু উন্নয়নের কাজ হয়ে আসছে। কিন্তু শরীয়তপুর ৩৪ বছর আগে থেকে অনুমোদনের পর প্রথমে মহকুমা তারপর ৬ বছরের মাথায় এসে জেলা হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যপরিধি ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নসহ সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন তো হয়ইনি। পরিপূর্ণ জেলা হিসেবে সদরে যে সব দপ্তর থাকার কথা সেগুলি এখানে নেই। এ ব্যাপারে আমরা শরীয়তপুরবাসী ১৯৮৫ সাল থেকে ঢাকাতে ‘শরীয়তপুর জেলা উন্নয়ন সমিতি’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যেতে থাকি। অবশেষে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় নেতা আবদুর রাজ্জাক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ৯৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত শরীয়তপুরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অনেকটা এগিয়ে নিয়েছিলেন। হঠাত্ তাঁর মৃত্যুতে এই উন্নয়ন অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়ে।
উত্তরে পদ্মা, পূর্ব ও দক্ষিণে মেঘনা এবং আড়িয়াল খাঁ, পশ্চিমে কীর্তিনাশা নদী পরিবেষ্টিত শরীয়তপুর জেলা। ৭ থানা ও ৬ পৌরসভাসহ মোট ইউনিয়ন ৬৫। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশিই চরাঞ্চল। এখানকার গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন বলতে গেলে এখনো শুরুই হয়নি। ফেরি উদ্বোধনের পরে মহাসড়ক প্রশস্ত করার কাজ আজো শেষ হয়নি। শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার সড়কগুলি প্রশস্ত এবং পাকা না হওয়ায় যাতায়াতে দারুণভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। শরীয়তপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা, মেঘনার শাখা নদীগুলোতে ড্রেজিংয়ের অভাবে চর পড়ে যাচ্ছে। মূলত জেলাটি চরাঞ্চল এবং নদী ভাঙন কবলিত হওয়ায় এই জনপদের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। বেকার যুবদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। ভারী বা মাঝারি কোনো শিল্প-কলকারখানা এখনো গড়ে ওঠেনি। পর্যাপ্ত সরকারি অনুদানের অভাবে শরীয়তপুর জেলা পিছনে পড়ে আছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি দিতে সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
মো. আজিজুল হক মল্লিক
১৩/১-সি কে এম দাস লেন, ঢাকা
