শত কোটি টাকার গ্রোয়েন হার্ডপয়েন্ট ঝুঁকির মুখে
আমিনুল ইসলাম হিরু, বগুড়া
প্রশাসনকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চিঠি এবং থানায় জিডি করার দেড় মাসেও সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। দীর্ঘ দিন একটি সংঘবদ্ধ চক্র যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধ এবং অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে। প্রতিদিন ২/৩ শ’ ট্রাক বালু নদী থেকে লুট করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় ভাঙ্গন রোধে নির্মিত গ্রোয়েন, হার্ডপয়েন্ট, স্পার ও তীর রক্ষা কাজ ঝুঁকিতে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র ডান তীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ (বিআরই) ও জনপদ নদী ভাঙন থেকে রক্ষাকল্পে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন সময়ে এই অবকাঠামোগুলো নির্মাণ করা হয়। ওই অবকাঠামো ঝুঁকিমুক্ত ও জনপদ নিরাপদ রাখতে নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ২৯ জানুয়ারি সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চিঠি দেয় উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী। ১১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী। এর আগে ২৮ জানুয়ারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সারিয়াকান্দি থানায় একটি জিডিও করা হয়। কিন্তু এরপরেও অপ্রতিরোধ্যভাবে বালু উত্তোলন চলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের চিঠিতে বলা হয়, ১৯৬০-এর দশকে কুড়িগ্রাম থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ২২০ কিলোমিটার বিআরই নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার বিআরই পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়া ডিভিশন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায় কালিতলা গ্রোয়েন, সারিয়াকান্দি ও মথুরাপাড়া হার্ডপয়েন্ট নির্মাণ করে নদীর মূল স্রোতধারাকে পূর্ব দিকে সরিয়ে দিয়ে ভাঙন রোধ করা হয়েছে। এবং এই জমির উচ্চতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু একটি সংঘবদ্ধ চক্র বালু লুট করছে। তারা কালিতলা গ্রোয়েন হতে কুতুবপুর পর্যন্ত হার্ডপয়েন্ট ও নদী তীর রক্ষা কাজের নিকটতম দূরত্ব থেকে ড্রেজার ও লেবার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। বালু বোঝাই ভারি ট্রাক তীর রক্ষা কাজের ওয়াকওয়ের উপর দিয়ে চলাচল করায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে ওই সকল এলাকার নির্মিত অবকাঠামোসমূহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, অবকাঠামো রক্ষার স্বার্থে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক আশরাফুজ্জামান বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ-প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো নিয়ম নেই।
সারিয়াকান্দি থানার ওসি আলআমিন বলেন, বালু ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয় এসিল্যান্ড ও ইউএনওর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। চাইলে আমরা তাদের সহযোগিতা করব। ইউএনও শরিফ আহম্মেদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, শুধু চিঠি দেওয়াই যথেষ্ট নয়। মূল দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তারা সাইডে ডাকলে আমরা ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সহযোগিতা করব।
