কামাল লোহানী
আজ সেই মহান পুরুষের জন্মদিন, যিনি আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে এদেশের মানুষের হূদয়কে জয় করে শত্রুর বিরুদ্ধে মাতৃভূমিকে মুক্ত করার অঙ্গীকার করেছিলেন, তিনিই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার সাহসী নেতৃত্ব, নিরলস সংগ্রাম ও প্রদীপ্ত প্রজ্ঞা মানুষকে দিয়েছিল সাহস, মাতৃভূমিকে পাকিস্তানি হানাদারদের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনতে। ১৯৭১-এর ২৫শে মার্চ কালোরাত্রি প্রত্যক্ষ করেছি। সে রাত ছিল হানাদার বাহিনীর ভয়াল নৃশংস বাঙালিদের নিধনযজ্ঞ। এই দিন থেকেই গণহত্যার বিরুদ্ধে মানুষ নিজ নিজ শক্তি ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৭ই মার্চের সেই অমোঘ বাণী ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ যেমন সমগ্র জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছিল তেমনি জাতি নব উদ্বোধয়ের পথে দিয়েছিল সাড়া। মানুষ প্রয়োজনে দেশমাতৃকারের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী গ্রামে-গঞ্জে, নগরে-বন্দরে মুক্তি ফৌজ গড়ে তুলেছিল। দখলদার হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে তারা বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশিত সোনার বাংলা গড়বার নবসূর্যোদয়ের পথে এগিয়ে গিয়েছিল। আজ সেই মহান পুরুষের জন্মদিনে সমগ্র জাতি জানাবে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা। কারণ তিনি সুদীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার উন্মেষ ঘটিয়ে আমাদের বিজয় এনে দিয়েছিলেন মাত্র ৯ মাসে।
ছোটবেলায় বন্ধুদের প্রতি স্নেহ, ভালোবাসা আর দুরন্ত সাহসের শক্তি নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সেই সাহসী কিশোর একদিন যখন রাজনীতির হাতিয়ার হাতে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছিলেন, তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন মুক্তি ছাড়া জাতির কোনো প্রত্যাশা নেই। তাই যৌবন থেকে রাজনৈতিক দলের কর্মী, সংগঠক ও নেতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে দিয়েছিলেন পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে এক লাল সবুজের পতাকা। আজ তাই ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ যখন সমবেত কণ্ঠে গাই তখন এই মহামানবের বজ কণ্ঠ যেন ধ্বনিত হয় আমাদের প্রাণে। তাঁর চিরঞ্জীব স্মৃতি অম্লান হয়ে থাকবে বাঙালির দুখী মানুষের হাসিভরা মুখে, তাকে সালাম।
লেখক: সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
