১১৬ উপজেলায় কাল ভোট

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৯, ২২:৪০

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১১৬টি উপজেলায় আগামীকাল সোমবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট সাত হাজার ৩৯টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। এদিন এক কোটি ৭৯ লাখ ৯ হাজার ৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে এসব উপজেলায় আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছে। আজ রবিবার নির্বাচনী উপজেলাগুলোর কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটের সামগ্রী পাঠানো হবে। যান চলাচলের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকাগুলোতে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা টহল দিতে শুরু করেছেন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তথ্য অনুসারে এ ধাপে মোট ১২৯ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হলেও গোপালগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলার নির্বাচন তৃতীয় ধাপে এবং দিনাজপুর সদর উপজেলার নির্বাচন চতুর্থ ধাপে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের সুবিধার্থে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আর সব পদে একক প্রার্থী থাকার কারণে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে না নওগাঁ সদর, পাবনা সদর, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া ও চট্টগ্রামের মিরসরাই রাউজান-এ ছয়  উপজেলায়। ফলে ভোট হচ্ছে ১১৬টি উপজেলায়।

এদিকে পার্বত্য তিন জেলায় নির্বাচন উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে ইসি। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোটের আগে ও পরে পুলিশ, র্যাব, বিজিবির পাশাপাশি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে ইসি।

এর আগে গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপে ৭৮ উপজেলায় নির্বাচন হয়। এ ধাপে ১২টি জেলার মোট ৮৭টি উপজেলার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলেও পরে আদালতের নির্দেশনায় এবং প্রভাব সৃষ্টির অভিযোগে  নির্বাচন কমিশন নিজে ছয়টি উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করে। এছাড়া তিনটি উপজেলায় সব পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আর এ ধাপে চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় ধাপেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কারণে চেয়ারম্যান পদে ২৩টি উপজেলায়, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৩ উপজেলায় এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১২ উপজেলায় ভোট হবে না। আগামীকালের এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৭৭ জন, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৫৩৯ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৯৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

দুই এমপিকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ: এদিকে নির্বাচন কমিশন গতকাল দুই সংসদ সদস্য (এমপি)- কে  উপজেলা নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব সৃষ্টির অভিযোগে শনিবার সন্ধ্যার আগেই তাঁদের নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। এ দুই সংসদ সদস্য হচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার গাইবান্ধা-৫ আসনের মো. ফজলে রাব্বি  মিয়া ও কক্সবাজার-৩ আসনের সাইমুন সরওয়ার কমল। নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এই  নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিনাভোটে ২৩ চেয়ারম্যান: কাল দ্বিতীয় ধাপে যে ২৩ উপজেলায় বিনাভোটে চেয়ারম্যান হচ্ছে সেগুলো হলো-রংপুরের গংগাচড়া ও কাউনিয়া, দিনাজপুরের হাকিমপুর, পার্বতীপুর ও ঘোড়াঘাট, বগুড়ার আদমদীঘি ও শেরপুর, নওগাঁ সদর, পাবনা সদর ও সুজানগর, মৌলভীবাজার সদর, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডু, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, মীরসরাই, রাউজান ও হাটহাজারী, রাঙ্গামাটির লংগদু ও কাপ্তাই এবং  খাগড়াছড়ি সদর ও  মানিকছড়ি।    

দ্বিতীয় ধাপে যে ১১৬ উপজেলায় ভোট :দ্বিতীয় ধাপে যেসব  উপজেলার নির্বাচন হচ্ছে সেগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও জেলার সদর, পীরগঞ্জ, হরিপুর, বালিয়াডাঙ্গী ও রাণীশংকৈল। রংপুর জেলার গংগাচড়া, তারাগঞ্জ, পীরগাছা, বদরগঞ্জ, কাউনিয়া ও পীরগঞ্জ। গাইবান্ধা জেলার সদর, সাদুল্লাপুর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও পলাশবাড়ী। দিনাজপুর জেলার কাহারোল, বোচাগঞ্জ, চিরিরবন্দর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হাকিমপুর, বীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, বিরল, পার্বতীপুর, খানসামা ও ঘোড়াঘাট। বগুড়া জেলার সদর, নন্দীগ্রাম, সারিয়াকান্দি, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, ধুনট, শাজাহানপুর, শেরপুর, শিবগঞ্জ, কাহালু, গাবতলী ও সেনাতলা। নওগাঁ জেলার আত্রাই, নিয়ামতপুর,সাপাহার, পোরশা, ধামাইরহাট, বদলগাছী, রাণীনগর, মহাদেবপুর, পত্নীতলা ও মান্দা। পাবনা জেলার  আটঘরিয়া, বেড়া, ভাংগুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, ঈশ্বরদী, সাঁথিয়া ও সুজানগর। সিলেট জেলার সদর, বিশ্বনাথ, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ সও বিয়ানীবাজার। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর, সদর, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল। ফরিদপুর জেলার  বোয়ালমারী, চরভদ্রাসন, সদরপুর, সালথা, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, নগরকান্দা ও ভাঙ্গা। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডু, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী। রাঙামাটি জেলার সদর, লঙগদু, নানিয়ারচর, কাপ্তাই, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, কাউখালী, বরকল, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি। বান্দরবান জেলার সদর, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, থানচি, লামা, রুমা ও নাইক্ষ্যংছড়ি। খাগড়াছড়ি জেলার সদর, মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি, দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও রামগড়   এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া।