কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলার রহস্য উদঘাটনে ধোঁয়াশা কাটছে না। শনাক্ত বা গ্রেফতার হয়নি ঘাতকদের কেউ। পুলিশ ও ডিবির পর বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। এছাড়াও র্যাব, পিবিআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মামলার তদন্তে সহায়তা করছে। রহস্যের কূল-কিনারা খুঁজে পেতে রয়েছে তদন্ত সহায়ক কমিটি। রয়েছে একাধিক ছায়া তদন্তকারী সংস্থা। এরই মধ্যে তনুর লাশের প্রথম ময়না তদন্তের প্রতিবেদন কুমিল্লার আদালতে দাখিল করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র পরিদর্শক গাজী মো. ইব্রাহিম কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নব বেগমের আদালতে ওই প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
জানা যায়, গত ২০ মার্চ তনু হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটি তদন্ত করে। পরে ৪ দিনের মাথায় এ মামলা কুমিল্লা সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। এরই মধ্যে ঢাকা সিআইডির সিনিয়র পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আকন্দকে প্রধান করে ৬ সদস্যের তদন্ত সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সূত্র জানায়, সিআইডি’র কুমিল্লাস্থ বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খানসহ কুমিল্লা সিআইডি’র একটি প্রতিনিধি দল এখনো ঢাকা অবস্থান করছেন। তারা মামলার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত নিয়ে চুল-চেরা বিশ্লেষণ করছেন বলে সিআইডি সূত্র জানিয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআইডি’র একজন কর্মকর্তা জানান, ডিএনএ ও ফিঙ্গার প্রিন্ট পরবর্তীতে সন্দেহভাজনদের সাথে মিলিয়ে হয়তো ঘাতক শনাক্ত করা যেতে পারে। এছাড়াও জানা যাবে হত্যার মিশনে কতোজন অংশ নিয়েছিল। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যেহেতু প্রথম ময়না তদন্ত রিপোর্টে সব কিছু অস্পষ্ট, তাই এখন ভরসা দ্বিতীয় ময়না তদন্ত রিপোর্ট। এখন দ্বিতীয় ময়না তদন্ত রিপোর্ট পর্যন্তই অপেক্ষা করতে হবে। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. কামাদা প্রসাদ সাহার নিকট দ্বিতীয় ময়না তদন্ত রিপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলব না, তবে দ্বিতীয় ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেতে কিছু সময় লাগবে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
এদিকে গত ২০ মার্চ রাতে ওই হত্যাকাণ্ডের পর ১৭ দিনেও মামলার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশায় ভুগছেন তনুর পরিবার। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন জানান, তদন্ত সংস্থা ও মিডিয়ার নিকট ঘটনার বর্ণনা ও বিভিন্ন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে দিতে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, মেয়ে হত্যার বিচার আদৌ পাবো কি-না আল্লাহ জানেন। তিনি বলেন, দেশবাসী ও মিডিয়ার লোকজন ঘটনার শুরু থেকে যেভাবে আমার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছে, তাতে আমরা সবার নিকট কৃতজ্ঞ। আশা করি, সরকার ও তদন্ত দল আমাদের ও দেশবাসীকে নিরাশ করবে না। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজী মো. ইব্রাহীম বুধবার সন্ধ্যায় জানান, আদালতে প্রথম ময়না তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছি, এর বাইরে কিছু বলতে পারবো না।
