বিএনপিতে পদত্যাগী নেতার সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৯, ২২:৪০

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর এখন দল পুনর্গঠনে ব্যস্ত বিএনপি হাই কমান্ড। এক যুগ ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় ছত্রভঙ্গ দলকে নতুন করে সাজাতে মনোযোগী হয়েছেন নীতি-নির্ধারকরা। ইতোমধ্যে কৃষকদল, মত্স্যজীবীদল, ড্যাবসহ কয়েকটি অঙ্গ ও সহযোগী দলের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ সবগুলো অঙ্গদলের কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। প্রতিটি জেলা কমিটির সঙ্গে স্কাইপে’তে বৈঠক করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যেখানে মেয়াদ শেষ হয়েছে সেখানে নতুন কমিটি হচ্ছে। জেলায় জেলায় কাউন্সিলের প্রস্তুতি চলছে। কেন্দ্রীয় নেতারা যখন দল পুনর্গঠনে ব্যস্ত তখন দেশের বহু স্থান থেকে প্রতিদিনই খবর আসছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পদত্যাগ করছেন। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পদত্যাগের সংখ্যা বেশি। তবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারাও একের পর এক পদত্যাগ করছেন।এদের মধ্যে প্রভাবশালী কোন কোন নেতাও আছেন। বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বেশ কয়েক জন নেতা পদত্যাগ করতে পারেন। বহু নেতা ইতিমধ্যে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। তারা দলের কর্মকা্ল থেকে অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেদের। বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী পদত্যাগের পর গত মাসে পদত্যাগ করেন এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, খুলনা মহানগরের সাবেক আহ্বায়ক ও খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আসগার লবী। গতকাল শনিবার পদত্যাগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন।

গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান। নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে পদত্যাগ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও কণ্ঠশিল্পী মনির খান। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ফতুল্লা থানা সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ আলম। এইসব নেতারা সবাই পদত্যাগপত্রে পদত্যাগের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত সমস্যা, অসুস্থতা ও পারিবারিক সমস্যার কথা বলেছেন।

তবে দলটির নীতি নির্ধারকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, ব্যবসা বাণিজ্য রক্ষা, রাজনৈতিক হয়রানি থেকে নিস্কৃতি এবং পদ-পদবী নিয়ে অন্তোষের কারণে পদত্যাগ করছেন নেতারা। কয়েক জন নেতা দলের হাই কমান্ডকে জানিয়েছেন, বিএনপি করার কারণে তাদের ব্যবসা বাণিজ্য দখল করে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরা। গতকাল বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, গতকাল শাহাব উদ্দিন দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। রাজধানীতে তার একটি প্রসিদ্ধ হাসপাতাল আছে। বিএনপি করার কারণে এই হাসপাতালটি তার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।  

বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শাহাব উদ্দিনসহ কয়েকজন নেতার পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল শনিবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রেগে গিয়ে বলেন, আমাদের কেউ পদত্যাগ করেননি। আপনারা সাংবাদিকরা শুধু বিএনপির দোষ খুঁজে বেড়ান, আওয়ামী লীগের কোনো দোষ খোঁজেন না। আওয়ামী লীগ যে পুরো জাতির সঙ্গে প্রতারণা করলো, মধ্যরাতে ব্যালট বাক্স ভরলো সে বিষয়ে দোষ খোঁজেন না, আর কিছু লেখেনও না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ জানান, এইসব পদত্যাগে বিএনপির রাজনীতিতে নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়বে না। যারা যাচ্ছেন তারা কয়দিন পরেই রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকারের নানামুখী চাপের কারণে কেউ কেউ পদত্যাগপত্র দিচ্ছেন। আমরা এইসব পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করার নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত দিচ্ছি না।

এদিকে গতকাল পদত্যাগকারী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হয় এই পদত্যাগের অন্য কোন কারণ আছে কিনা? তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলবো না। আপনারা নিশ্চয়ই সবকিছু বোঝেন।