যশোর মেডিকেল কলেজের (যমেক) অধ্যক্ষের কার্যালয় ও প্যাথলজি বিভাগে ভাঙচুর চালিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে যমেক অস্থায়ী কার্যালয়ে এ ভাঙচুর চালানো হয়। যমেকের শিক্ষা কার্যক্রম স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর ও নিয়মিত ক্লাসের দাবিতে এ ভাঙচুর চালানো হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় তাদের নেতৃত্বেই এ হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।
যশোর মেডিকেল কলেজের প্রধান সহকারী আব্দুস সবুর খান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে তার অফিসে যান। এ সময় হঠাৎ কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী চিৎকার-চেচামেচি এবং অধ্যক্ষের অফিসের জানালা ও আসবারপত্র ভাঙচুর করে। কিছুক্ষণ পর প্যাথলজি বিভাগেও তারা ভাঙচুর করে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আগামী ১৩ এপ্রিল যশোর মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম স্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হবে বলে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু সে বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত থাকায় বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে। এ সময় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার ব্যাপারে অধ্যক্ষের বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় তারা ভাঙচুর করেছেন।
IMG0
যমেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান তুহিন জানান, গত ৬ মার্চ নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছিল। এরপর কলেজ অধ্যক্ষ তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন ১৩ এপ্রিল অস্থায়ী থেকে তারা নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করবেন। কিন্তু সেই সময়সীমা ফুরিয়ে আসলেও স্থানান্তর পদক্ষেপ সন্তোষজনক না হওয়ায় তারা বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এরপর তারা কলেজ অধ্যক্ষে সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু অধ্যক্ষ তাদের অপারগতার কথা জানান। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে।
একামেডিক দ্বিতীয় প্রফেসনাল পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তুহিন বলেন, পরীক্ষায় একটি বিষয়ে তার ফলাফল খারাপ হয়েছে। তবে এর সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে এ ঘটনার পর যমেক একাডেমিক কাউন্সিল ও শিক্ষক সমিতি জরুরি সভা ডাকেন। সভায় ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যমেক গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদারকে প্রধান করে এ কমিটি করা হয়েছে।
এই সভা শেষে যমেক অধ্যক্ষ ডা. আবু হেনা মাহাবুব উল মওলা চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীরা কলেজে ভাঙচুর চালিয়েছে। ঘটার পর একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এর ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
