রপ্তানি বাড়াতে ফার্নিচার এবং প্ল্যাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে ভর্তুকি দেবে সরকার। এখন থেকে ফার্নিচার রপ্তানির মোট মূল্যের উপর ১৫ শতাংশ এবং প্ল্যাস্টিক রপ্তানিতে ১০ শতাংশ হারে ভর্তুকি দেয়া হবে বলে সোমবার আলাদা দু’টি সার্কুলার জারি করে এ ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
সার্কুলার দুটি সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘোষণার ফলে কোনো রপ্তানিকারক ১০০ টাকার ফার্নিচার রপ্তানি করলে ১৫ টাকা এবং ১০০ টাকার প্ল্যাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে ১০ টাকা ভর্তুকি পাবে সরকারের কাছ থেকে।
সার্কুলার দু’টিতে বলা হয়, নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত ফার্নিচার রপ্তানির ক্ষেত্রে নিট এফওবি মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ও প্ল্যাস্টিক পণ্যের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হারে ভর্তুকি পাওয়া যাবে।
সার্কুলার জারির তারিখ থেকে জাহাজিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
তবে উৎপাদনের কোনো পর্যায়ে ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না বলে শর্ত রাখা হয়েছে। এছাড়া রপ্তানির বিপরীতে শুল্ক বন্ড সুবিধা প্রাপ্ত এবং ইপিজেড এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের জন্য এই ভর্তুকি সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, রপ্তানি করা পণ্যের হ্যান্ডলিং, মানোউন্নয়ন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যয়, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিবহন এবং ফ্রেইট চার্জ পরিশোধজনিত ব্যয়ের বিপরীতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধি অনুযায়ী এই ভর্তুকি প্রদেয় হবে।
ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রের আওতায় রপ্তানি পরবর্তী পর্যায়ে প্রণীত দলিলাদি কিংবা ডকুমেন্টারি কালেকশনের মাধ্যমে প্রত্যাবাসিত রপ্তানি আয়ের বিপরীতে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক শাখায় রপ্তানিকারক রপ্তানি ভর্তুকির জন্য আবেদনপত্র দাখিল করতে পারবেন।
টিটি’র মাধ্যমে অগ্রিম রপ্তানিমূল্য প্রত্যাবাসনের শর্তযুক্ত রপ্তানি ঋণপত্র বা চুক্তির বিপরীতে রপ্তানির ক্ষেত্রে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক শাখাকে বিদেশি ক্রেতার যথার্থতা, মূল্যের সঠিকতা এবং বাংলাদেশ থেকে প্রকৃত রপ্তানির নিমিত্তে টিটির মাধ্যমে অগ্রিম মূল্য প্রত্যাবাসন সম্পর্কে টিটি বার্তার ভাষ্য ও অন্যান্য কাগজপত্রের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।
টিটি’র মাধ্যমে অগ্রিম মূল্য পরিশোধ সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে (এক্সচেঞ্জ হাউস ব্যতীত) রপ্তানি আদেশ প্রদানকারী বা আমদানিকারক কর্তৃক সম্পন্ন হতে হবে এবং টিটি বার্তার ভাষ্যে আমদানি সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্র উল্লেখ থাকতে হবে।
রপ্তানির স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলাদি যেমন জাহাজিকরণের প্রমাণস্বরূপ বিল অব লেডিং বা এয়ারওয়ে বিল, কমার্শিয়াল ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, শুল্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করতে হবে।
বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে সরকার বস্ত্র, হিমায়িত মাছ, পাট, চামড়াসহ বেখ কিছু পন্য রপ্তানিতে বিভিন্ন হারে ভর্তুকি বা নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্তু এবারই প্রথম ফার্নিচার এবং প্ল্যাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তার ঘোষণা দিল সরকার। বিডিনিউজ।
