খুলনায় শিশু আবুল কাশেম হত্যা মামলায় ৪ ভাইসহ ৯ জনকে যাবজ্জীবন করাদণ্ডাদেশ, প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস এম সোলায়মান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- খুলনার তেরখাদা উপজেলার বিপ্রআজগড়া গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের ৪ ছেলে করিম শেখ, রহিম শেখ, জলিল শেখ ও সোবহান শেখ, মৃত নওয়াব আলী শেখের দুই ছেলে মো. গোলাম শেখ ও মো. জব্বার শেখ এবং সাত্তার মল্লিকের ছেলে সাইফুল মল্লিক, আক্কাস দায়ের ছেলে সাত্তার দাই এবং ফরিদ জমাদ্দারের ছেলে হারুন জমাদ্দার।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে তেরখাদা উপজেলার বিপ্রআজগড়া গ্রামের রথখোলা সড়কের পাশে আলতাফ শেখের মটরশুটির ক্ষেতের পাশে শিশু আবুল কাশেমকে ডেকে নিয়ে আসামিরা শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. ইসরাইল মল্লিক পরদিন ২২ জনের নামে তেরখাদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশের এসআই মো. রেজাউল ইসলাম ২০০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে ৯ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। শুরুতে খুলনার অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে ২০০৬ সালের ২৫ জুন চার্জগঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরপর ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মামলাটি খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি হয়। এই ট্রাইব্যুনালে ২০০৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে বিচার চলাকালে ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে পিপি আরিফ মাহমুদ লিটন ও আসামি পক্ষে মুজিবুর রহমান মামলাটি পরিচালনা করেন।
