টানা ৯ দিন বন্ধ থাকার পর সচল হয়েছে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি পাটকল। বৃহস্পতিবার পহেলা বৈশাখ নতুন বছরের শুরুতেই শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলে মিলগুলোতে আবারো উৎপাদন শুরু হয়। সৃষ্টি হয় কর্মচাঞ্চল্য। এদিকে, পহেলা বৈশাখের সকালে শ্রমিকদের বকেয়া দু’ সপ্তাহের মজুরি প্রদান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, পাঁচ দফা দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের কারণে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ব সাত পাটকলের উৎপাদনের চাকা বন্ধ হয়ে যায়। উৎপাদন না হওয়ায় লোকসান হয়েছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু বুধবার সরকারের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের ফলপ্রসূ আলোচনার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার শিপ্ট থেকে কাজে যোগ দেয় শ্রমিকরা। এরই মধ্যদিয়ে মিলগুলোতে পূণ: উৎপাদন শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে সৃস্টি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।
বিজেএমসি খুলনার আঞ্চলিক লিয়াজো অফিসের সূত্র জানা গেছে, ক্রিসেন্ট, স্টার ও প্লাটিনাম-জুবিলী জুট মিলে ৯ সপ্তাহ, ইস্টার্ন ও জেজেআই জুটমিলে ৬ সপ্তাহ, কার্পেটিং জুটমিলে ৪ সপ্তাহ এবং আলিম জুটমিলে ৩৮ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দু’ সপ্তাহের মুজুরি পরিশোধ করা হয়। রোববার আরও দু’ সপ্তাহের মুজুরি প্রদান করা হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের সদস্য সচীব এসএম জাকির হোসেন বলেন, শ্রমিকরা পহেলা বৈশাখে দু’ সপ্তাহের মজুরি পাওয়ায় কিছুটা হলেও খুশি হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ডাল-ভাত খেতে পারছে। রবিবার আরও দু’ সপ্তাহের বিল এবং ২৫ এপ্রিলের মধ্যে অন্যান্য বকেয়া পরিশোধ করা হলে শ্রমিকদের মুখে হাসি ফুটবে।
এ ব্যাপারে বিজেএমসি খুলনার আঞ্চলিক লিয়াজো কর্মকর্তা মহব্বত আলী চৌধুরী বলেন, প্রতিটি মিলেই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ শুরু হয়েছে। মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সকল বকেয়া পরিশোধ করা হবে। ৯ দিন মিল বন্ধ থাকায় মিলগুলোতে কয়েক কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তবে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়ায় পূণরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে লোকসান কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হবে।
