আহসান জোবায়ের
লাইন ধরে লম্বালম্বি করে শিশুরা দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই খাবার পাবে তাই সবার চোখে-মুখে হাসির ঝিলিক। তবে অন্যান্য দিনের মতো কারো মুখে পিনপতন নীরবতা নেই। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সবার মুখে উত্সাহ যে, আজকে রেস্টুরেন্টের দামি খাবার দেওয়া হবে। ১৩ মার্চ বিদ্যানন্দের ‘১ টাকার আহার’ আয়োজনটি ছিল আগের যেকোনো দিনের চেয়ে আলাদা। সেদিন ১ টাকায় শিশুদের জন্য বুফে খাওয়ার আয়োজন করা হয়। বিদ্যানন্দের একজন ডোনারের ময়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এই আয়োজন করেন।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের একজন জানালো, আজকে তাদের বড় দোকানের মাংস, পোলাও, ডিম আরো বিভিন্ন ধরনের দামি খাবার দেওয়া হবে। এ নিয়ে তাদের মাঝে উচ্ছ্বাসের অন্ত নেই। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দের আয়োজনে পথশিশুদের মাঝে ‘১ টাকায় আহার’ প্রকল্পটি চলছে সেই ২০১৬ সাল থেকে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে। ঘরোয়া পরিবেশে রান্না করে খাবার বিলিয়ে দেওয়া হতো গরিব অসহায়দের মাঝে। খাবার কিনে খাওয়ার মতো নিজেদের সামর্থ্যবান ভাবতে পারার আনন্দকে উপহার দিতেই মূলত এই আয়োজন। এই পরিকল্পনার আওতায় খাবার পেয়ে থাকেন ১২ বছরের নিচে অসহায় শিশু আর ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বৃদ্ধরা। ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে কিছু দাতা ফাউন্ডেশনটিতে অর্থ দান শুরু করেছে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনটি সারাদেশে দৈনিক ১৫০০-এর বেশি প্যাকেট খাবার বিতরণ করে থাকে। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত তারা ২৪ লাখেরও বেশি খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেছে।
বিদ্যানন্দের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সালমান খান বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের শুরুটা পথশিশুদের পড়ানোর মধ্য দিয়ে। তখন আমরা দেখতাম খাবারের অভাবে পথশিশুরা পড়তে আসতো না। পরে আমরা বিস্কুট দেওয়া শুরু করলাম। এতে দেখলাম শিশুর সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এরপর থেকে পথশিশুদের একবেলা খাবারের জন্য ১ টাকা করে নেওয়া হয়। মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে একবেলার সুস্বাদু খাবার তাদের পরিতৃপ্তি জোগাতে অনেকটাই সক্ষম। একবেলার এই খাবার যেন অসহায় মানুষগুলোকে ভিক্ষাবৃত্তি বলে মনে না করায় সেজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে নূন্যতম একটি মূল্য রাখা হয়। আর সেই নূন্যতম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ টাকা। ফাউন্ডেশনের বেশিরভাগ আয় হয় পেজ থেকে। পেজে সবাই কার্যক্রম দেখে যোগাযোগ করে। পেজে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং বিকাশ নম্বর দেওয়া আছে। সেটা দেখে অনেকেই সাহায্য করে।’
বিদ্যানন্দ একটি শিক্ষা সহায়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বর্তমানে ৮টি শাখার ১২০০-এর অধিক শিক্ষার্থী এই কার্যক্রমের সুবিধাভোগী। বিদ্যানন্দ পড়ালেখা নিয়েও নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। বিদ্যানন্দ এখন স্বপ্ন দেখছে নিজস্ব ক্যাম্পাসে অনাথ আশ্রম নিয়ে একটি পরিপূর্ণ স্কুলের।
