নওগাঁয় বিজিবি চত্ত্বরে বৈশাখী মেলায় জুয়া ও শহীদ মিনারে জুতা পরে সেল্ফি

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৬, ২২:৪৯
নওগাঁয় বিজিবি-৪৩ চত্ত্বরে বৈশাখী মেলায় জুয়া আসর ও শহীদ মিনারে দর্শনার্থীরা জুতা পরে সেল্ফি তোলায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও মেলায় দর্শনার্থীদের কাছ থেকে মেলায় প্রবেশের সময় ১০ টাকা ও মোটরসাইকেল রাখার জন্যে ২০ টাকা নেয়ায় অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, শহরের সীমান্ত পাবলিক স্কুলের আয়োজনে ও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-৪৩ নওগাঁর তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে কয়েক হাজার মেলাপ্রেমী মেলায় অংশগ্রহণ করেন। মেলা প্রাঙ্গনে প্রবেশের সময় গেইট পাশ ও লাকী কূপনের নামে প্রত্যেক দর্শনার্থীর কাছ থেকে ১০ টাকা করে নেয়া হয় টিকেট বাবদ।
IMG0
মেলা প্রাঙ্গনে দুপূর থেকে প্রায় ২০টি জুয়ার আসর বসানো হয়। অব্যবস্থাপনার সুযোগে স্কুল মাঠে থাকা শহীদ মিনারে উঠে দর্শনার্থী সেল্ফি ও আড্ডা দিতে দেখে সচেতন নাগরিকের মধ্যে ক্ষোভের সুষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্যে ১০টাকা টিকিট নির্ধারণ করা হলেও প্রতিটি মটরসাইকেল থেকে ২০ টাকা করে নেয়া হয়।
মেলায় আসা দর্শনার্থী আমজাদ হোসেন, ওমর ফারুক, সাহিনা আক্তার জানান, প্রতি বছরের মত স্কুলের প্রাঙ্গনে বিজিবি তত্ত্বাবধানে মেলার আয়োজন করা হয়। কিন্তু এবার গেইট পাশ ও লাকী কূপনের নামে প্রত্যেক দর্শনার্থীর কাছ থেকে ১০ টাকা করে রাখা হয়েছে টিকেটের নামে।
মোটরসাইকেল আরোহী জাহিদ হাসান, আব্দুল্লাহীল বাকি জানান,মোটরসাইকেল গ্যারেজ করার নামে ১০ টাকার স্থলে ২০ টাকা নেন বিজিবির সদস্যরা। তাদের বাড়তি ১০ টাকা নেয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তারা কোন কথা বলেননি। বাধ্য হয়ে ২০টাকা করে দিতে হয়েছে।
স্থানীয় মুন্নাফ রাহি জানান, সকাল থেকে কয়েকশত মানুষকে শহীদ মিনারের ওপর জুতা পরে আড্ডা ও সেল্ফি তুলতে দেখা যায়। কিন্তু এ ব্যপারে বিজিবি বা স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পরে হঠাৎ করে বিজিবির সদস্যরা মিনারের ওপর থেকে দর্শনার্থীদের নামিয়ে দেয়।
মেলায় আসা দর্শনার্থী আরিফুল ইসলাম, এবাদুল হক, হাসান আলী জানান, সরকার যেখানে জুয়ার ব্যাপারে কঠোর সেখানে বিজিবির তত্ত্বাবধানে মেলায় প্রায় ২০টি জুয়ার আসর বসলো কীভাবে? সন্ধ্যার পর বিজিবির সদস্যরা জুয়ার মেলা ভেঙ্গে একবার ভেঙে দেয়। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর আবারো শুরু হয় জুয়ার আসর। 
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস.এম, মোসলেম উদ্দিন মোটরসাইকেল রাখার জন্যে টাকা নেয়া, গেইট পাশ ও লাকী কূপনের নামে টাকা নেয়ার সত্যতা স্বীকার করলেও জুয়ার আসর সম্পর্কে জানেন না বলে দাবি করেন। মেলায় প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার দর্শনার্থী আসেন।
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-৪৩ নওগাঁর অধিনায়ক লে: জাহিদ হাসান জানান, শহীদ মিনারে জুতা পরে দর্শনার্থী ওঠার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও জুয়ার আসর ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, বিষয়গুলো তার জানা নেই। তবে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।