যারা কফিপ্রেমী তাদের সংগ্রহে থাকে নানা ধরনের কফি। বলাই বাহুল্য, কফির নাম বলতেই যাদের চোখ-মুখে উত্তেজনা দেখা যায় তারা রেস্তোরাঁয় গিয়ে হাত খুলে টাকা খরচ করে নানা স্বাদের কফি ও সবচেয়ে সেরা কফিটা চেখে দেখতে একটুও সঙ্কোচবোধ করেন না। কারণ এক কাপ কফির দাম কত হতে পারে? নিশ্চয়ই নাগালের ভেতর। কিন্তু মেলবোর্নের ‘হোজে আলফ্রেডো’ কফি খেতে আপনাকে পুরো ১ মাসের বেতন গুনতে হতে পারে! এ কফি বিনের মূল্য প্রতি কেজি ৫ হাজার ডলার।
এই কফির আবিষ্কারক পানামা ও ইথিওপিয়ার কফি উত্পাদক ‘নাইন্টি প্লাসের’ সাধারণ ব্যবস্থাপক হোজে আলফ্রেডো। মেলবোর্নের কয়েকটি ক্যাফেতে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ‘হোজে আলফ্রেডো’ বলে খ্যাত চমত্কার এ কফি। সেন্ট কিল্ডা, সাউথ ইয়ারা ও অ্যাবোটসফোর্ডের ৩টি ক্যাফেতে পাওয়া যাচ্ছে স্বতন্ত্র ঘরানার ও মিশ্রণের অর্গানিক এ কফি। এসব ক্যাফেতে এ কফি পরিবেশন করা হচ্ছে গবলেট গ্লাসে। আর প্রতিটি গ্লাসে ঢালা হয় এক কাপ পরিমাণ কফি। প্রতি চুমুকে কফির সঙ্গে পাওয়া যাবে কোকো, লিচুসহ বিভিন্ন ফল ও ফুলের স্বাদ। বর্তমানে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কফি।
অদ্ভুত কফি শপ
নর্থ ডাকোটা বার্নস কাউন্টির ভ্যালি সিটিতে ‘দ্য ভল্ট’ নামক একটি কফি শপ খুঁজে পাবেন, যেটি খুবই অদ্ভুত। এই দোকানে কোনো কর্মচারী নেই! এই দোকানে যদি আপনি কখনো যান তাহলে আপনাকেই কফি বানিয়ে খেতে হবে। আর মূল্যও পরিশোধ করতে হবে আলাদা একটি বাক্সে। যেখানে কোনো হিসাবরক্ষকও নেই।
কফি শপটি এখনো চলছে তার নিজস্ব সেবা, সম্মান ও নিয়মে। আপনি এই কফি শপ থেকে চা কিংবা কফি খেয়ে মূল্য পরিশোধ করলেন কি করলেন না তাতে ‘দ্য ভল্ট’ মালিকের কিছুই যায় আসে না। তিনি মনে করেন, এই দোকানটি মানুষকে সত্ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। আপনি মূল্য পরিশোধ না করলেও এই দোকানের মালিক কাপ প্রতি ১৫ শতাংশ ভ্যাট ঠিকই পরিশোধ করেন। আপনি চাইলেই এই দোকানে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন যেকোনোদিন!
অনুপ্রেরণায় কফি
খাবারের সঙ্গে লেখার অনুপ্রেরণা খোঁজার একটা অদ্ভুত চেষ্টা ছিল লেখকদের। লেখার অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য ফ্রেঞ্চ কথাসাহিত্যিক বালজাক প্রচুর পরিমাণে কফি পান করতেন। বলা হয়ে থাকে, তিনি তার ম্যাগনাম ওপাস বা লা কমিডিয়া হিউম্যানি লেখার সময় প্রতিদিন পঞ্চাশ কাপের বেশি কফি পান করতেন। তার বন্ধুরা বলতেন, বালজাক লেখার সময় খুব কম সময়ই ঘুমাতেন। হয়তো কফির প্রভাবেই তিনি ঘুমাতে পারতেন না, কিন্তু কফি খেয়ে লেখার অনুপ্রেরণা নেওয়া সত্যিই বড় অদ্ভুত। কফির নেশায় পাওয়া লেখকের তালিকায় ছিলেন ভলতেয়ারও। তিনিও প্রতিদিন চল্লিশ কাপ করে কফি পান করতেন।
