কুষ্টিয়ার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে ছোট ভাইয়ের দাবি “বড় ভাই ’৭১-এ রাজাকার ছিলেন”

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৬, ২৩:৪৫
কুষ্টিয়ার মিরপুরে পৈত্রিক সম্পতি নিয়ে ভাই-ভাইয়ের রিরোধ চরমে উঠেছে। উদ্ভুত বিষয়টি নিয়ে অসংখ্যবার আপোষ-রফায় উদ্দ্যোগ নিয়েও পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রীতি গলদঘর্ম হয়ে উঠেছেন। এ ঘটনায় বুধবার সকালে বড় ভাই ও বিকালে ছোট ভাই পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরকে অভিযুক্ত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেন।
সকালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আমলা ইউনিয়নের কুশাবাড়ীয়া মধ্যপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ীতে মৃত মফিজ উদ্দিন মন্ডলের বড় ছেলে তফিজ উদ্দিন মন্ডল সংবাদ সম্মেলন করে ছোট ভাই রফিজ উদ্দিন মন্ডলের বিরুদ্ধে বাড়ী ভাংচুর, লুটপাট, বোমাবাজী ও চাঁদাবাজীর অভিযোগ করেন। এ সময়ে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, চাঁদার দাবীতে মঙ্গলবার রাতে রফিজ উদ্দিন মন্ডল, আব্দুল মালেক ও নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে পিন্টু, জলিল মন্ডল, মুজাহিদ, রবিউল ইসলাম, হাসান আলী, ইসরাইল, খিলা, মামুন, আজিজুল হক, আব্দুল হাকিম, জয়নাল মন্ডল, সোনা, তুফান, রোকন আলী, আব্দুল মান্নান মন্ডলসহ ২০/২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আমার বাড়ীর প্রধান ফটকের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে হামলা ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নগদ ৫৫ হাজার টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এ সময়ে হামলাকারীরা ওই বাড়ীর ২টি বৈদ্যুতিক মিটার, গাছ-পালা ও মৌসুমী ফল নষ্ট করেন এবং তারা জোরপূর্বক সাড়ে ৫ বিঘা জমি দখল করে রেখেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন তিনি। এ সময়ে ওই পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে বিকেলে কুশাবাড়ীয়া গ্রামে ছোট ভাই রফিজ উদ্দিন মন্ডল সংবাদ সম্মেলন করে বড় ভাইয়ের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বড় ভাই তফিজ উদ্দিন মন্ডলকে ভ‚মিদস্যু, লুণ্ঠকারী, নারী ধর্ষক ও রাজাকার আখ্যায়িত করে তার শাস্তি দাবী করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন তফিজ উদ্দিন মন্ডল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে কাজ করেছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় সে পৈত্রিক সম্পতি থেকে আমাকে ও অপর ৩ বোনকে শরীক ফাঁকি দিয়ে জমা-জমি জোর পূর্বক দখল করে রেখেছে। এ সম্পতির জন্য সে পিতা-মাতা উপর একাধিকবার শারিরীক নির্যাতন চালিয়েছে।
রফিজ উদ্দিন তার বড় ভাই তফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন যে, ২০১৩ সালের ১১ আগষ্ট নিজ বাড়ীতে বোমা তৈরি করতে গিয়ে হাসানুল ও রতন নামে তফিজ উদ্দিনের দুজন সহযোগী আহত হন। ওই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ তাদেরকে আটক করে। সাম্প্রতিক ওই রাজাকার তফিজ উদ্দিন মন্ডলের নেতৃত্বে তার ছেলে শাহানুর রহমান ও মিজানুর রহমান বাবুসহ বেশ কয়েকজন আমার মেহেগনি বাগান কেটে নষ্ট করাসহ জমি দখল করে রেখেছে। তিনি নিজের সম্পত্তি ফেরতসহ রাজাকার তফিজ উদ্দিন মন্ডল ও তার পরিবারের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। এ সময়ে তার চাচাতো ভাই আব্দুল জলিল মন্ডল, আজিজুর রহমান, আব্দুল হাকিম, আব্দুস শহীদ, মামাতো ভাই আব্দুল মালেক, নাসির উদ্দিন এবং তফিজ উদ্দিন মন্ডলের নির্যাতনের স্বীকার হাবিবুর রহমান, সাইদুর রহমানসহ কয়েকশ গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। নির্যাতনের স্বীকার গ্রামবাসীও রাজাকার তফিজ উদ্দিন মন্ডলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।