নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠছে নাগেশ্বরীর ১৪ ইউনিয়নের নির্বাচন। সূর্যোদয় থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। চলছে মাইকিং, উঠোন বৈঠক। সর্বত্রই শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোষ্টার। ফসলের মাঠ থেকে চায়ের দোকান সবই সরগরম এ নির্বাচনকে ঘিরে।
এবারেই প্রথম দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই প্রার্থী নির্বাচনের পর থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বসে নেই বিভিন্ন দলের জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীর পক্ষে ছোট ছোট গ্রুপ করে তারাও নেমে পড়েছেন মাঠে। লিফলেট হাতে স্ব-স্ব দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বাড়ী বাড়ী ঘুরে ভোট চাইছেন। কেউ সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বক্তব্য দিচ্ছেন, কেউ বিপক্ষে। পিছিয়ে নেই মহিলারাও। তারাও ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে বেরিয়ে পড়েছেন। দলীয় প্রতীক ও প্রার্থীকে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করছেন মহিলাদের। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ভোটারদের তাদের পক্ষে টানতে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তারা ভোটারদের বোঝাচ্ছেন নির্বাচিত হলে দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক লিটন চৌধুরী বলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করছে। এতে প্রার্থীর পক্ষে ভোটারের ব্যাপক সাড়া মিলছে। আমরা আশা করছি ফলাফল আশানুরূপ হবে। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন আমাদের নেতা-কর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করছে। আমাদের বেশিরভাগ প্রার্থী এবারে বিজয়ী হবে বলে আশা করছি। উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আ.ম.প আনিছুর রহমান জানান মাঠ পর্যায়ে জাতীয় পার্টির ভোট বেশি রয়েছে। তারপরেও আমরা বসে নেই। দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিতে দিন রাত করছি। প্রচারে পিছিয়ে নেই সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থীরাও। উল্লেখ্য এবারে ১৪ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় ৫১, স্বতন্ত্র ৩২ জনসহ মোট ৮৩ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৫০৩ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৮৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন রামখানা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের আব্দুল আলীম সরকার, বিএনপির শাহজাহান আলী, জাতীয় পার্টির মাহফুজার রহমান মন্ডল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল কাদের।
সন্তোষপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের লিয়াকত আলী লাকু, জাতীয়পার্টির নুর ইসলাম সরকার, ইসলামী আন্দোলনের নুরুজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুব আলম রানু (আনারস) ও ময়েন উদ্দিন (ঘোড়া)।
রায়গঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের আ স ম আব্দুল্ল্যাহ আল ওয়ালিদ মাসুম, বিএনপির আমিনা বেগম অনন্যা, জাতীয় পার্টির নুরুজ্জামান মন্ডল, ইসলামী আন্দোলনের মুস্তাফিজুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় পার্টি ২ বিদ্রোহী আশরাফুল আলম আশরাফ (ঘোড়া) ও আব্দুল আউয়াল সরকার (আনারস)।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মাইনুল হক প্রধান, বিএনপির নবীবুর রহমান, জাতীয় পার্টির আমজাদ হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম আজম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আ ন ম বজলুর রশীদ ইবনে কাদের (আনারস) ও আবু বক্কর সিদ্দিক ইকরাম (ঘোড়া)। বেরুবাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সোলায়মান আলী, বিএনপির জানে আলম মন্ডল, জাতীয়পার্টির আইয়ুব আলী, ইসলামী আন্দোলনের আমিনুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী আব্দুল মোত্তালেব (মোটর সাইকেল) ও জাতীয় পার্টি বিদ্রোহী মাসুম উল হক (ঘোড়া)।
ভিতরবন্দ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মিজানুর রহমান মির্জা, বিএনপির শফিউল আলম শফি, জাতীয় পার্টির আমিনুল হক খন্দকার, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল জলিল।
হাসনাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের আওরঙ্গজেব, বিএনপির গোলাম মাওলা আজাদ, জাতীয় পার্টির নুরুজ্জামান সরকার, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হাই (চশমা)।
নেওয়াশী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মাহফুজার রহমান, বিএনপির মাহফুজার রহমান সিদ্দিকী, জাতীয় পার্টির আমজাদ হোসেন সরকার, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল মান্নান, জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম খান (ঘোড়া), বিএনপির বিদ্রোহী এন্তাজ আলী (আনারস)।
কালিগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের আব্দুর রহিম, বিএনপির শাহিনুর রহমান স্বপন, জাতীয় পার্টির মতিয়ার রহমান ব্যাপারী ও রিয়াজুল হক প্রধান (আনারস)।
কেদার ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মাহবুবুর রহমান, বিএনপির আনিছুর রহমান তোলা ব্যাপারী, জাতীয় পার্টির আ.খ.ম ওয়াজিদুল কবীর রাশেদ, ইসলামী আন্দোলনের নুরুল ইসলাম খন্দকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউর রহমান মানিক (ঘোড়া)।
কচাকাটা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের আব্দুল বারী, বিএনপির হাশেম আলী সরকার, জাতীয় পার্টির আব্দুল আউয়াল, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুস সাত্তার মিঞা, স্বতন্ত্র জাহিদুল ইসলাম (আনারস), নুর-ই-ইসলাম (ঘোড়া) ও শাহাদত হোসেন মন্ডল (চশমা)। বল্লভেরখাস ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের আতাউর রহমান, বিএনপির আজিবর রহমান, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আনজুমান আরা বেগম, জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল (ঘোড়া), জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী আকমল হোসেন (চশমা), বিএনপি বিদ্রোহী বাবর আলী (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী নুর আলম প্রধান (মোটর সাইকেল)।
নুনখাওয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আমিনুল ইসলাম, বিএনপির তাজুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির শহজালাল উদ্দিন মোল্লা, বিএনপির বিদ্রোহী আবুল কাশেম আজাদ (দুটি পাতা), বিএনপির বিদ্রোহী জিয়াউর রহমান (টেবিল ফ্যান), ও বিএনপির বিদ্রোহী রিয়াজুল হক (অটোরিক্সা), জাতীয় পার্টি বিদ্রোহী সাবুল হোসেন (চশমা), জাতীয় পার্টি বিদ্রোহী জিয়াউল ইসলাম (ঢোল), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী জাহাঙ্গীর আলম (আনারস), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী সাহাবর আলী (মেটরসাইকেল) ও স্বতন্ত্র রিয়াজুল ইসলাম (ঘোড়া)। নারায়নপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বেলাল হোসেন, বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় পার্টির আবু হানিফ সরকার, জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী ইয়াকুব আলী (মেটরসাইকেল), জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী মোস্তফা মোল্লা (চশমা), জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী জহিরুল ইসলাম ব্যাপারী (ঘোড়া) ও বিএনপি বিদ্রোহী মজিবর রহমান (আনারস)।
