নাটোরে বাংলা বর্ষবরণ

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৬, ১৭:৩১
 
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৪০০ সালে প্রথম প্রভাত ফেরীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বাংলা নববর্ষ পালনের রীতি অনুযায়ী এবারেও নাটোরে জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে বর্ষবরণ করা হয়েছে। সকালে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় কানাইখালী মাঠ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে অংশ নেন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের নানান বয়সের নারী-পুরুষ।
 
শোভাযাত্রাটি নাটোরের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শিমুলে নেতৃত্বে শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে রাণী ভবানী রাজবাড়ি চত্বরে আয়োজিত তিনদিন ব্যাপী গ্রামীণ মেলায় গিয়ে¡ সমবেত হয়। পরে উন্মুক্ত মঞ্চে বাংলা বর্ষ বরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয় নাচ, গান ও আবৃত্তি সহ বিনোদনের রকমারি পরিবেশনা। এছাড়াও গ্রামীণ মেলা চত্বরে ব্যবস্থা রাখা হয় বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলার।
 
তিনদিনের এই মেলায় প্রায় বিশটি স্টল দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি স্টল থেকে বিনে পয়সায় তৃষ্ণার্তদের মুড়ি-মুড়কি আর ঠাণ্ডা পানি খাওয়ানো হচ্ছে। রাজবাড়ীর প্রবেশদ্বারে রঙ-তুলি নিয়ে বসে থাকা বেশ ক’জন আঁকিয়ে শিল্পী তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে শিশু-কিশোর সহ বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষের মুখ ও হাতে রঙ্গিন আলপনা এঁকে দেন। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেলে পর্যন্ত মেলা চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
 
IMG0
এ ছাড়াও নবাব সিরাজ উদ দৌলা সরকারি কলেজ থেকে ঐতিহ্যবাহী টমটম গাড়ী নিয়ে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে নেচে-গেয়ে শহরে ঘুরে আবারও কলেজে ফিরে যায়। রাণী ভবানী সরকারী মহিলা কলেজে পান্তা-পেঁয়াজ দিয়ে শুরু হয় তাদের বর্ষ বরণের কর্মসূচি। পরে কলেজ মঞ্চে দিনভর চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও নাটোরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পৃথক পৃথকভাবে নব বর্ষ পালন করা হয়। শহরের প্রধান সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নাটোর কালেক্টরেট স্কুলের ছাত্ররা আলপনা এঁকে নববর্ষের অনুষ্ঠানমালাকে আরো রঙ্গিন করে তুলে। বাংলা বর্ষবরণের এই দিনটিতে রাজা-রাজদের শহর নাটোর যেন পরিণত হয় এক উৎসবের নগরীতে।