'দেশীয় আইটি কোম্পানির অগ্রাধিকারে প্রয়োজন আইন ও নীতিমালা'

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৬, ১৯:২৩
 
দেশীয় আইটি কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দিতে আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন বলে জানালেন বেসিস সভাপতি শামীম আহসান। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, চীন, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশের নীতিমালা ও আইনেই বলা আছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্টের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ দেশি কোম্পানিকে দিয়ে করাতে হবে। এর ফলে আমরা প্রতি বছর কয়েকশ' মিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যারসহ তথ্যপ্রযুক্তি সেবা আমদানি না করে স্থানীয় সফটওয়্যার ব্যবহার ও আরও শক্তিশালী আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করতে পারব।
 
তিনি বলেন, স্থানীয় বাজারের উন্নয়নে দেশীয় কোম্পানির প্রাধান্য প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে বিদেশি কোম্পানিগুলো একচেটিয়া ব্যবসা করে যাচ্ছে। ফলে দেশীয় নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন নথি বিদেশিদের কাছে চলে যাচ্ছে। ঘটছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের হ্যাকিংয়ের মতো অঘটন। এই অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে অবশ্যই স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
 
শামীম আহসান বলেন, আমরা দেশীয় কোম্পানিগুলোর প্রসার চাই। কিন্তু আমরা এটা দেখতে পাই যে, বিদেশি অর্থায়নে সরকারি আইসিটি প্রকিউরমেন্টে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো এমন সব কঠিন শর্ত জুড়ে দেয়, যা শুধু বৃহৎ বিদেশি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণে সহায়তা করে এবং দেশীয় কোম্পানিগুলো অংশগ্রহণে ব্যর্থ হয়। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব টাকা বিদেশে চলে যায়।
 
IMG0
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় বাজার উন্নয়নে ইতিমধ্যেই বেসিসের পক্ষ থেকে পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট পলিসি ও অ্যাক্টে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয়েছে, যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্ঠা, পরিকল্পনা মন্ত্রী, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী সমর্থন করেছেন।
 
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের হ্যাকিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শুধু অর্থ নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন তথ্যও হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। এর কিছুদিন আগে কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লোপাট করা হয়। এসব ব্যাংক দামি বিদেশি সফটওয়্যার বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে। দেশে ভালোমানের তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি থাকা স্বত্বেও আমরা উচ্চ ব্যয়ে বিদেশি কোম্পানি ও বিশেষজ্ঞ আনছি। তাদের তৈরি বা পছন্দের সফটওয়্যার ব্যবহার করছি। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো তাদের কাছে চলে যাচ্ছে। এক কথায় আমাদের তথ্য বিদেশিদের কাছে বেহাত হয়ে যাচ্ছে।
 
তিনি এর সমাধানে দেশি কোম্পানিগুলৌর সহায়তা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের দেশি কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিকমানের সফটওয়্যারসহ তথ্যপ্রযুক্তি সেবা তৈরি করছে। বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন মাইক্রোসফট, ডেল, নকিয়া, স্যামসাং, ওয়েলস ফার্গো ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এনএ, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, এইচএসবিসিসহ বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশে তৈরি সফটওয়্যার ও সেবা ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দেশি কোম্পানির প্রতি সচেতনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব রয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশি কোম্পানির নাম ও প্রসার এখন বিশ্বব্যাপি বিস্তৃত। এসব কোম্পানি একদিকে যেভাবে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে, অন্যদিকে বিশাল জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করছে। অথচ আন্তর্জাতিকমানের এসব কোম্পানি থেকে আমাদের দেশি কোম্পানিগুলো সেবা নিচ্ছে না। ফলে তাদেরকে বিভিন্ন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার এগিয়ে আসলে ও বিদেশে থেকে আমদানি করা সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা নিরুৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলেই দেশি কোম্পানিগুলো নেতৃত্বে চলে আসবে।
 
IMG1
এ সময় তিনি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে কাজ করার সমস্যাগুলো তুলে ধরে বলেন, বিদেশি যে সফটওয়্যারগুলো আমদানি করা হয় সেগুলো তারা বিক্রি করেই চলে যায়। সফটওয়্যারের সোর্স কোর্ড থাকে না, ফলে কাস্টোমাইজ করা যায় না। এমনকি বিক্রয় পরবর্তী সেবাও ভালোভাবে পাওয়া যায় না। এছাড়া পাসপোর্ট, ন্যাশনাল আইডি কার্ডসহ দেশের বড় বড় প্রকল্প বিদেশিদের হাতে থাকায় আমাদের দেশের জনগনের তথ্য বিদেশিদের কাছে চলে যাচ্ছে। যেটা আমাদের দেশের জন্য নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে।
 
সর্বশেষে শামীম আহসান বলেন, এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে ২০১৮ সাল নাগাদ ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মাধ্যমে একসময় গার্মেন্টস খাতের মতো তথ্যপ্রযুক্তি খাত জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।