১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ নতুনরুপে সাজানো হয়েছে। সৌন্দের জন্য এলজিইডি বিভাগ বিশাল আম্রকাননের ১৩৫০টি গাছের গোডায় সাদা চুন দিয়ে রং করা হয়েছে। ২২শ স্কয়ার ফিট প্রাচীর রং করা হয়েছে। স্মৃতি সৌধের ২৩টি স্তম্ভ, কার্পেটিং ও গ্রাউড লেবার দিয়ে ঘষে মেজে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
মুজিবনগর আম্রকাননের স্মৃতিসৌধের পাশে শেখ হাসিনা মঞ্চে সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুজিবনগর বাগান ঝাড়ু দিয়ে পরিস্কার করা হয়েছে। মেহেরপুর-মুজিবনগর প্রধান সড়কে অসংখ্য তোরণ তৈরি করা হয়েছে। যেন নব রুপে সেজেছে ৭১-র মুজিবনগরের আম্রকানন।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগর আম্রকাননে মঞ্চ তৈরি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম মন্ত্রীপরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে গার্ড-অফ-অনার প্রদানকারী মুজিবনগর ভবেরপাড়া গ্রামের ১২ আনসার-মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৪ জন আনসার মুক্তিযোদ্ধা জীবিত আছে। এরা হলেন- আজিমদ্দিন (৭৫), সিরাজুল ইসলাম(৬৭), লিয়াকত আলি (৬৫) ও সোনাপুর গ্রামের হামিদুল ইসলাম(৬৬)। বাকি যে আটজন মারা গেছে তারা হলেন- ভবেরপাড়া গ্রামের অস্থির আলি, নজরুল ইসলাম, মফিজ উদ্দিন, কেসমত আলি, মহিম উদ্দিন ও ফকির মহাম্মদ। পাশ্ববর্তী সোনাপুর গ্রামের সাহেব আলি ও ইরাদ আলি। ৮ জন মৃত আনসার মুক্তিযোদ্ধার মুজিবনগর কমপ্লেক্সে ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে। এই জীবিত ৪ আনসার মুক্তিযোদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি তাদেরও স্মৃতি ভাস্কর্য তৈরি করতে হবে।
মেহেরপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন বলেন, এবার ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস জনসভায় লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ হবে । জেলা আওয়ামী ও জেলা প্রশাসন থেকে সকল আয়োজন সম্পূর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূতিকাগার এই মুজিবনগর সরকারের প্রথম প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্মরণে মেহেরপুরবাসী এই দিনটির অপেক্ষায় থাকে।
এদিকে জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ জানান, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে মুজিবনগরে দিনব্যাপি অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। সভায় সভাপতিত্ব করবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
