ইসলামাবাদে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯, ১৯:১৭

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। রবিবার ইসলামাবাদস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে দিবসটি পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে চানসারিতে এক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয়। পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহসান বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন।

হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারবর্গ, প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকবৃন্দ এবং শিশুরাও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে হাইকমিশনার শিশুসহ সকলকে সাথে নিয়ে জন্মবার্ষিকীর কেক কাটেন।পরে, দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি-অগ্রগতি এবং বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মুনাজাত  অনুষ্ঠিত হয়। এরপর, দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

অলোচনা সভায় হাইকমিশনার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে শিশুদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

হাইকমিশনার তার বক্তৃতায় গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইষ্টচার্চে সংঘটিত সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং বাংলাদেশসহ সকল নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

তিনি বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও মানুষের প্রতি তাঁর স্নেহ-মমতার কথা স্মরণ করে বলেন, শিশুকাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে সাধারণ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও অনুকম্পার মত বিশেষ গুণাবলী পরিলক্ষিত হয়। মানুষের প্রতি এই ভালবাসাই বঙ্গবন্ধুর পরিণত জীবনে তার রাজনৈতিক আদর্শকে রূপায়িত করেছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের শুধুমাত্র একটি স্বাধীন দেশই উপহার দেননি, তিনি আমাদের একটি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নও দিয়েছিলেন, যে স্বপ্নের দেশ হবে ক্ষুধা, দারিদ্র ও নিরক্ষরতা মুক্ত; যে সমাজ হবে সমতা, সামাজিক ন্যায় বিচার আর মানবিকতার উপর প্রতিষ্ঠিত। 

জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশী শিশুরা হাইকমিশন কর্তৃক আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা’ এবং ‘বঙ্গবন্ধু ও ছয় দফা’ বিষয়ে রচনা লেখা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এছাড়া শিশুরা বঙ্গবন্ধুর উপর রচিত কবিতা ও ছড়া আবৃত্তি এবং দেশাত্মবোধক নৃত্য পরিবেশন করে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে হাইকমিশনার ও হাইকমিশনার পত্নী পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করেন। শেষে, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ইত্তেফাক/বিএএফ