আজ রবিবার ১৭ এপ্রিল দিনাজপুরের ফুলবাড়ির আঁখিরা গণহত্যা দিবস। ৪৫ বছর আগে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আজকের এই দিনে খানসেনাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-সামস বাহিনীর সহায়তায় হানাদার পাকিস্তানী খানসেনারা আঁখিরা নামক স্থানে অর্ধশত হিন্দু পরিবারের দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতি, শিশু-কিশোর-কিশোরীকে মেশিনগানের ব্রাশ ফায়ারে নির্মমভাবে হত্যা করে।
গণহত্যার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত নির্মিত হয়নি গণহত্যার শিকার সেই আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে কোন স্মৃতিসৌধ। এ কারণে প্রতি বছর নীরবে দিবসটি আসে আর নীরবেই চলে যায়।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. লিয়াকত আলী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী খানসেনা ও তাদের এ দেশীয় রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে মুক্তিকামী মানুষ বিভিন্ন সীমান্ত পথে দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিতে শুরু করে। এমনভাবে আজকের এই দিনে ফুলবাড়ি উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জের আফতাবগঞ্জ, বিরামপুর, পার্বতীপুরের শেরপুর, ভবানীপুর, বদরগঞ্জ ও বদরগঞ্জের খোলাহাটিসহ বিভিন্ন এলাকার অর্ধশত হিন্দু পরিবারের দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর-কিশোরীকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ফুলবাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর রাজাকার কেনান সরকার অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঐ পরিবারগুলোর সঙ্গে থাকা অর্থ সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে খানসেনাদের হাতে তুলে দেয়। পরে খানসেনারা আটক ঐ পরিবারগুলোর সবাইকে ঐদিন সকাল ১১টায় উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের বারাইহাট সংলগ্ন আঁখিরা পুকুর পাড়ে নিয়ে মেশিনগানের ব্রাশ ফায়ারে নির্মমভাবে হত্যা করে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, রাজাকার, আলবদর, আলসামসসহ পাকিস্তানী খানসেনাদের হত্যাযজ্ঞের শিকার নিরীহ বাঙালি নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরদের আত্মদানের স্থানটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে। স্থানটি এখন গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা এবং পাকিস্তানী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের হত্যাযজ্ঞের কথা নতুন প্রজন্মকে জানাতে অবশ্যই সেখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণসহ প্রতিবছর দিবসটি সরকারিভাবে পালনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
