ধামইরহাটে শতাধিক রাইস মিল বন্ধ

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৬, ১৭:৫৮
ধানের আমদানি কম, প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে চাল আমদানি, সরকারিভাবে খোলা বাজারে চাল বিক্রি ও স্থানীয় উৎপাদিত চালের বিক্রয় মূল্য কম থাকায় নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ড্রাম বয়লারের রাইস মিল দিন দিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
 
ইতিমধ্যেই ধামইরহাট উপজেলার ১০০টি চালকলের মধ্যে প্রায় ৮০টির মত বন্ধ হয়ে গেছে। এই চাতালগুলোতে এক সময় শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেলেও নানা সংকটের কারণে এখন অধিকাংশ চাতাল বন্ধ হওয়ায় শত শত শ্রমিক হারিয়েছে তাদের কর্মসংস্থান।
 
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ধামইরহাট সদর, হরিতকি ডাংগা, মঙ্গলবাড়ি, আমাইতাড়া, ফতপুর এলাকায় চাতাল তৈরি শুরু হয়। বর্তমানে এই উপজেলায় ১শ টিরও বেশি সরকারি লাইসেন্স ভুক্ত চাল কল আছে। এই চাতালগুলোতে যে পরিমাণ চাল উৎপাদন হতো তা দিয়ে জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হতো।
 
ধামইরহাট চাউল কল মালিকরা জানান, এবারে বেশকিছু চাল অবিক্রিত রয়েছে। বাজার দর কমে যাওয়ার ফলে অনেক লস হবে। ড্রাম বয়লারের চাল এই মুহূর্তে বাজারে কেনা বেচা নেই বললেই চলে। এই অবস্থায় বাজার থাকলে আসন্ন ইরি- বোরো মৌসুমে যথা সময়ে মিল চালু করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। বেসরকারি ব্যাংকগুলো আমাদের মত ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে খুব বেশি মনযোগী না। অপরদিকে অটো রাইস মিল মালিকদেরকে অধিক পরিমাণ ঋণ দেয়ার কারণে মৌসুমের শুরুতেই প্রচুর পরিমাণ ধান তারা সংগ্রহ করে সারা বছর মিল চালায়। কিন্তু আমরা চাতাল ব্যবসায়ীরা এই পরিমাণ ধান সংগ্রহ করতে না পারায় বাজার ওঠানামার কবলে পড়ে লোকসান গুনতে হয়।