ভারতের তেল-গ্যাস প্রতিমন্ত্রী ঢাকায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৬, ১০:১৩
ভারতের তেল-গ্যাস প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ঢাকায় এসেছেন রবিবার। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।
 
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ধর্মেন্দ্র প্রধান ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদীর সফরকালে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা বলেন। তিনি বলেন, তার এ চার দিনের সফর মূলত নরেন্দ্র মোদীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতার লক্ষ্যে। প্রধান বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে।  নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও গতিশীল করতে চাচ্ছে।
 
তিনি বাংলাদেশ থেকে শিলিগুড়ি অর্থনৈতিক করিডোরে উচ্চ গতিসম্পন্ন ডিজেল (এইচএসডি) সরবরাহ, পার্বতীপুর ডিপোতে নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) পণ্যসহ এইচএসডির নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখার ব্যাপারে আলোচনা করেন। উভয় দেশের হাইড্রোকার্বন সেক্টরের পেট্রোলিয়াম সরবরাহ নিয়েও আলোচনা হয় সাক্ষাতের সময়।
 
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যকার মোটরযান চুক্তি এবং বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডর গঠনের কথাও তুলে ধরেন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রামে একটি এলপি গ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে যাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
 
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘ইতোমধ্যেই গঙ্গা পানি বণ্টন এবং স্থলসীমান্ত সমস্যার সমাধান করেছি। এখন আমরা কানেকটিভিটি শক্তিশালী করার কাজ করছি।’
 
দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন।
এসময় বাংলাদেশে তেল-গ্যাস সরবরাহ করার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
 
সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, শেখ হাসিনা এ অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচনে প্রতিবেশী দেশগুলোর যৌথ সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
 
সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
১৭ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পযর্ন্ত এ সফরকালে ধর্মেন্দ্র প্রধান সাক্ষাৎ করবেন বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরীর সঙ্গে এবং  বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে।