রানীনগরে ২২ কি.মি খাল খনন হলে উপকৃত হবে দেড় লাখ মানুষ

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৬, ০১:০৪
রানীনগরে খাল খনন করে দুই পাশের প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনা হচ্ছে। এতে ওই জমিগুলোতে এক ফসলের পরিবর্তে কৃষকরা তিনটি ফসল উত্পাদন করতে পারবেন। জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির স্তর সংস্কারের জন্য বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। এতে উপকৃত হবে এলাকার প্রায় দেড় লাখ মানুষ।
 
রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার প্রায় ২২ কি.মি এই খাল খনন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী ৩ বছরের মধ্যে খাল খননের কাজ সম্পন্ন হবে।
 
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রানীনগর জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. তিতুমীর রহমান জানান, রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার ২২ কি.মি খাল খননের প্রথম পর্যায়ে রানীনগর উপজেলার মিরাট ইউপির ধনপাড়া ৩নং স্লুইস গেট থেকে পলাশবাড়ি স্লুইস গেট পর্যন্ত শ্রীমতখালী খালের ১৭ কি.মি খাল খনন প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রকল্পের অংশ হিসেবে রানীনগর উপজেলার ৩নং স্লুইস গেট থেকে পলাশবাড়িসহ ৯ কি.মি খালের ৪ কি.মি ও আত্রাই উপজেলার ৫ কি.মি কাজ আগামী এক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। পুরো খাল খনন করা হলে এ এলাকার প্রায় দেড় লাখ মানুষ উপকৃত হবে। দীর্ঘদিন খালগুলো খনন না করায় পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে খালের পাশের জমিগুলোতে কৃষক একটি মাত্র ফসলই চাষ করতে পারতেন। কিন্তু এই খাল খননের পর তারা একই জমিতে তিন ফসল চাষ করতে পারবেন। খননের ফলে সব সময় খালে পানি থাকবে ফলে কৃষকদের জমিতে পানি সেচ অনেকটা সহজলভ্য হবে এবং সেচ খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে। ভূ-গর্ভস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধিসহ ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়বে। আর খালে সব সময় পানি থাকায় দেশি-বিদেশিসহ অনেক প্রজাতির মাছ খালে মুক্ত পানিতে বড় হবে।
 
খননের পর খালের দুই পাশ দিয়ে প্রায় ৪৪ কি.মি রাস্তা তৈরি করা হবে যা এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। খালের উপর দিয়ে প্রায় ২ লাখ বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করা হবে। অপরদিকে উপজেলার বেতগাড়ি ছোট যমুনা নদীর সংযোগস্থল থেকে আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর পর্যন্ত ৫ কি.মি খাল নতুন করে খননের কাজ এই অর্থবছরেই শেষ করা হবে।