সকাল থেকেই ছিল ঝড়ো বাতাস আর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির ক্লান্তিহীন নুপুর নৃত্য। আর গত ২ দিন আগেই ঘটে গেল জাপানে পর পর তিন দফা ভুমিকম্প। যাতে নিহত হয়েছে অন্তত ৪৭ জন। আর আহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
প্রকৃতির এ নিষ্ঠুরতাও যেন মানুষের আনন্দ আর উচ্ছাসকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। প্রকৃতির বিরুপ আচরণকে উপেক্ষা করে নানা প্রতিকুলতার মধ্য দিয়েও যে মানুষ হাসতে পারে, আনন্দ উচ্ছাসে মেতে উঠতে পারে তা-ই দেখা গেল অনুষ্ঠিত এবারের টোকিও বৈশাখী মেলায়।
১৭ এপ্রিল রবিবার টোকিওর প্রাণকেন্দ্র তোশিমা সিটির ইকেবুকুরো নিশিগুচি পার্কে দিনব্যাপী এই মেলায় আগমন ঘটেছিল ধর্ম-বর্ণ-দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রবাসীদের। শুধু প্রবাসীরাই নয়, স্থানীয় জাপানি অতিথি ছাড়াও বিভিন্ন দেশের নাগরিকগণ ইকেবুকুরো নিশিগুচি পার্কে স্বল্প সময়ের জন্য একচিলতে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশীয় সংস্কৃতি উপভোগ করতে আসেন এই বৈশাখী মেলায়।
সপ্তদশ এই বৈশাখী মেলা ও কারি ফেস্টিভ্যাল শুরু হয় সকাল ১০টা থেকে। প্রায় চার হাজারের মতো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মঞ্চে একটানা চলতে থাকে নানা আয়োজন। এবারও যথারীতি ছিল শিশুদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান। নতুন নতুন শিশুরা বিভিন্ন পরিবেশনায় মেলাকে করে তুলেছিল আনন্দঘন৷ তাদের জন্য ছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আরও ছিল বড়দের উন্মুক্ত অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, স্থানীয় জাপানিদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সংবর্ধনা, শুভেচ্ছা বক্তব্য, স্থানীয় প্রবাসী সাংস্কৃতিক দলগুলোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সব শেষে প্রবাসী শিল্পীদের সংগীতানুষ্ঠান। এ ছাড়া আরও ছিল বিনা মূল্যে প্রবাসী বাঙালিদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার সুযোগ।
অবিরাম বৃষ্টির কারণে সাদামাঠা উদ্বোধন হলেও প্রবাসীদের উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না। এসময় মেলা আয়োজক কমিটি সংশ্লিষ্ট ছাড়াও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগত দর্শনার্থীও স্টেজে উদ্বোধনী গানে অংশ অংশ নেন। মেলায় প্রধান অতিথি হয়েছে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।
তিনি বলেন, জাপানে এরকম মেলায় এবারই আমি প্রথম অংশগ্রহন করছি। আমি অত্যন্ত সন্মানীতবোধ করছি আপনাদের মাঝে এসে। এ সময় তিনি সবাইকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান।
রাষ্ট্রদুত বলেন, এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের মধ্যে যদি কোন ভেদাভেদ থাকে তারও অবসান ঘটবে বলেই আমার প্রত্যাশা। এ সময় সম্প্রতি জাপানে ভুমিকম্পে নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানান রাবাব ফাতিমা।
মেলা আয়োজক কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন শেখ আলীমুজ্জামান।বিশেষ অতিথি হিসেবে তশিমা-কুর স্থানীয় ডেপুটি মেয়র মিজুশিমা মাছাহিকো ও আয়োজক সংগঠন জেবিএসের চেয়ারম্যান ওৎসুব ওসামু৷ আয়োজনটি পরিচালনা করেন জুয়েল আহসান কামরুল ও তানিয়া ইসলাম মিঠু।
মেলায় সমবেতদের একাংশমেলায় প্রবাসী দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়। প্রথমে উত্তরণ বাংলাদেশ কালচারাল গ্রুপ এবং পরে স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি। বরাবরের মতো তারা দর্শকদের নির্মল আনন্দ দিতে সক্ষম হন। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রবাসীদের মাতিয়ে রাখা হয়েছিল জনপ্রিয় সংগীত দিয়ে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন মুহিন ও লুইপা।
