অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে সিলেটর বিভিন্ন হাওর রক্ষাবাধ ও উঠতি বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ক্রমাগত পানির চাপে পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত হাওর রক্ষা বাধগুলো যে কোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সিলেটের কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা চলছে।
সোমবার সন্ধ্যায় সিলেট বিভাগীয় অফিসে জরুরি ভিত্তিতে দুর্যোগময় পরিস্থিতির সর্বশেষ করণীয় নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দিন। সভায় সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডকে হাওর রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এদিকে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের বাধ ভেঙ্গে, শিলা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ৭ হাজার ২শত হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সোমবার জগন্নাথপুর ও ধর্মপাশায় নতুন করে বেশ কয়েকটি হাওর তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকায় মাইকিং চলছে এবং সব স্থানে সতর্ক করা হয়েছে হাওর রক্ষা বাধগুলো ঠিকিয়ে রাখার জন্য। গত বছর এই সময়ে সুরমার পানি সেখানে ২ দশমিক ৭৪ সে.মিটার ছিল এবার সেখানে ৬ দশমিক ৪৭ সে.মিটার। অন্যদিকে আগামী ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল ঝড় ও বৃষ্টিবাদল বাড়তে পারে-মর্মে আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জে সুরমার পানি বিপদ সীমার ৮৪ সে.মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ৬ এপিল থেকে সুনামগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হয়। বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ফসলহানি ঘটায় অনেক হাওরে কৃষকরা কোমর পানি, বুক পানিতে ধান কেটে নিচ্ছে। আবার অনেক হাওর সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা ধান তুলতে পারেনি।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষ্ণ চন্দ্র হুড় সিলেট বিভাগের সব কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের ছুটি বাতিল করে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এ পর্যন্ত হাওরের ৩০ ভাগ বোরো কাটা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে শনিবার পর্যন্ত সিলেটের চার জেলায় ৮ হাজার ২২৫ হেক্টর বোরো জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেটস্থ তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম সরকার ইত্তেফাককে বলেন, হাওরে দ্রুত পানি বেড়ে বাধগুলো হুমকির মুখে। তবে কৃষকরা দ্রুত ধান কেটে নিচ্ছে। বাধ ভেঙ্গে বা উপচে যাতে হাওরে আর পানি না ঢুকতে পারে সে জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৮০-৯০ হাজার বস্তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
