শিকল-তালা পায়ে নিয়ে যশোর থেকে পালিয়ে মাদ্রাসাছাত্র মাগুরায়

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৬, ২২:৩৩
কাঠের গুঁড়ির সঙ্গে পায়ে তালা দিয়ে রাখা এক শিশুকে পাওয়া গেছে মাগুরায়।
 
রবিবার গভীর রাতে শিশুটিকে পাওয়া যায় বলে জানান মাগুরা সদর থানার ওসি আজমল হুদা। শিশুটি (১০) যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরিলাকুড়ে মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। তার পায়ে ভারি কাঠ ঝুলিয়ে তাতে শিকলে বেঁধে রাখা হতো।
 
মাগুরা সদর থানার ওসি আজমল হুদা বলেন, রাত ১২ টায় দিকে পায়ে তালা দিয়ে শিকল ও ভারি কাঠ ঝোলানো অবস্থায় শিশুটিকে এক সাংবাদিক পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। সোমবার বিকালে ছেলেটিকে তার পরিবার ও পুলিশের মাধ্যমে বাঘারপাড়া থানা হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বাঘারপাড়া থানার পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা  নেবে।
 
শিশুটি জানায়, হাফেজি শিক্ষার জন্য তিন বছর আগে তার বাবা যশোর সাদুল্লাপুর দড়িয়াকুড়ে মাদ্রাসায় দিয়ে আসেন। কিছুদিন পর থেকে মাদ্রাসার হুজুর জাহাঙ্গীর তাকে মারপিটসহ নানাভাবে নির্যাতন শুরু করেন। নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে আগেও একাধিকবার মাদ্রাসা থেকে পালানোয় ৩-৪ মাস আগে জাহাঙ্গীর তার পায়ে মোটা শিকল বেঁধে তালা লাগিয়ে ১০ কেজি ওজনের কাঠ ঝুলিয়ে দেন। রবিবার বিকালে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাসে চড়ে মাগুরা শহরের ভায়না মোড়ে এসে নামার পর স্থানীয়রা তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। তাকে তালা মেরে পায়ে শিকল ও কাঠ ঝোলানোর ঘটনায় তার বাবা সম্মতি দিয়েছিলেন বলে জানায় শিশুটি।
 
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে শিশুটির বাবা বলেন, মাদ্রাসা থেকে যাতে না পালাতে পারে সে জন্য পায়ে শিকল বেঁধে তালা ও কাঠ ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখছি ভুল হয়েছে।