জৈন্তাপুরে পলো বাওয়া উত্সব

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯, ২১:২০

নদীমাতৃক বাংলার ঐতিহ্য

 মো. হানিফ, জৈন্তাপুর (সিলেট) সংবাদদাতা

হারিয়ে যাচ্ছে নদীমাতৃক বাংলার ঐতিহ্য পলো বাওয়া। কালের পরিক্রমায় শুকিয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে খাল-বিল আর নদী-নালা। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও কেউ কেউ বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে লালন করার চেষ্টা করছেন। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় এ সময়টাতে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলের কম পানিতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তখন কম পানিতে পলো দিয়ে মাছ শিকারে আনন্দ পান সৌখিন শিকারি ও কৃষকরা। এরই ধারাবাহিকতায় আনন্দ উত্সবের মধ্য দিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দুইগ্রাম হরিপুর-বালিপাড়ার অধিবাসীর অংশগ্রহণে মঙ্গলবার সকালে বাড়ারডুয়ার বিলে পালিত হলো ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উত্সব।

এতে অংশ নেয় উপজেলার দুই গ্রাম হরিপুর-বালিপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা  বিভিন্ন বয়সের কয়েকশ শৌখিন মাছ শিকারি। উত্সবের দিন সাত-সকালে নিজ নিজ পলো, হাতজাল, উড়ালজাল ও লাঠিজালসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার জিনিসপত্র নিয়ে বিলের পাড়ে গিয়ে সমবেত হয়। সবাই মিলিত হওয়ার পরে এক সঙ্গে পলো নিয়ে পানিতে ঝাপিয়ে পড়েন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়েও মাছ শিকার করে অনেকটা আনন্দ উপভোগ করার চেষ্টা করেন। দূর-দূরান্ত থেকে কয়েকশ মানুষ জড়ো হয় বিলের ধারে।  সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পলোসহ মাছ শিকারে নানা সরঞ্জাম নিয়ে বিলে নামে শিকারিরা। এ সময় পলোতে আটকা পড়তে দেখা যায় দেশীয় প্রজাতির মাছের মধ্যে শোল, বোয়াল, রুই, কাতলা। উত্সবে অংশ নেয়া অনেক শিকারিই মাছ ধরতে পেরে যেন আনন্দে আত্মহারা। কেউ কেউ আবার মাছ না পেয়ে ফিরেন খালি হাতে। তবে এ বছর বড় মাছের সংখ্যা কম দেখা যায়। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মুরব্বি হানা মিয়া বলেন, এ উত্সব আমাদের পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য। আমরা গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি। এ বছর শারীরিক কারণে অংশ নিতে না পারলেও বিলের ধারে এসে সে আনন্দ উপভোগ করেছি। হরিপুর এলাকার ফারুক আহমদ বলেন, নদী বেঁচে থাকলে বেঁচে থাকবে গ্রাম বাংলা ঐতিহ্যবাহী এ পলো উত্সব।

হেমু গ্রামের শোয়েব উদ্দিন জানান, বাঙালির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নদীমাতৃক প্রতিটি এলাকাতেই যেন এই ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উত্সবের আয়োজন করা হয়।