উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি ছড়াগুলো শুকিয়ে গেছে। পানির প্রবাহ নেই। পানি প্রবাহ কোনো কালে ছিল তাও মনে হয় না। পানি না থাকায় ছড়ার উপর নির্ভরশীল শতশত পাহাড়ি পরিবারে পানির কষ্ট দেখা দিয়েছে। গোসল করা, কাপড় ধোয়াসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করার জন্য পানি পাচ্ছে না পাহাড়ের মানুষ।
উপজেলার ওয়াগ্গা, চিত্মরম, রাইখালী, চন্দ্রঘোনা এবং কাপ্তাই ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সর্বত্রই চলছে পানির জন্য হাহাকার। ওয়াগ্গা ইউপি মেম্বার আপাই মারমা বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে কষ্ট করে খাবার পানি সংগ্রহ করা গেলেও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পাহাড়ি এলাকায় পুকুর বা ডোবা নেই। পাহাড়ি ছড়াই হলো একমাত্র ভরসা। মানুষের যাবতীয় কাজে পাহাড়ি ছড়ার পানি ব্যবহার করে। তবে শুষ্ক মওসুমে সব সময়ই আমাদের পানির কষ্ট ভোগ করতে হয়। অনেক স্কুলের টিউবওয়েলেও পানি উঠছে না।
বরইছড়ি বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা সংগঠিত হয়ে দূরে বয়ে যাওয়া কর্ণফুলী নদী থেকে মোটরের সাহায্যে পানি সংগ্রহ করছি। এই পানি আনতে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে; কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যক্তি উদ্যোগে এভাবে পানি সরবরাহ করা সম্ভব নয়। সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিলে মানুষের কষ্ট কমবে বলে সবাই আশা করছেন।
এ ব্যাপারে কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. দিলদার হোসেন বলেন, পানির কষ্টের কথা আমরা সবাই জানি। বিষয়টি রাঙ্গামাটি জেলা উন্নয়ন সভায়ও একাধিকবার উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষের পানির কষ্ট দূর করতে সরকারিভাবে পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে তা বাস্তবায়ন সময় সাপেক্ষ। এ ব্যাপারে তিনি সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন।
