আশুগঞ্জ নৌবন্দরে আটকা মালবাহী ২ শতাধিক কার্গোজাহাজ

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৬, ১৯:১৩
সর্বনিম্ন মজুরি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ, নৌপথে ডাকাতি-চাদাঁবাজি বন্ধ,নৌযান শ্রমিকের নিরাপত্তা,নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নৌযান শ্রমিককে নিয়োগপত্র/পরিচয় পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান, পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের পরিকল্পনা বতিলসহ ১৫ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বন্দরেও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনের মত চলছে।
 
ধর্মঘটের কারণে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে আটকা পড়েছে ২ শতাধিক মালবাহী কার্গোজাহাজ। নৌবন্দরে কার্গো জাহাজ থেকে মালামাল উঠানামাও বন্ধ করে দিয়েছে নৌযান শ্রমিকরা। বেকার সময় পার করছেন নৌবন্দরের সহস্রাধিক শ্রমিক। 
 
রাতের মধ্যে আটকে পড়া কার্গো জাহাজের সংখ্যা বেড়ে দিগুণ হওয়ার আশংকা রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করা কার্গো জাহাজ আশুগঞ্জ নৌবন্দরে চলে আসলে আটকে পড়া নৌযানের সংখ্যা চার শতাধিক ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিছেন নৌযান শ্রমিকেরা। কেন্দ্রীয় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে বুধবার মধ্যরাত থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়। 
 
এ ধর্মঘটে লঞ্চ, বাল্কহেড, তেলবাহী ট্যাংকার, বালুবাহী নৌকা, লাইটার জাহাজসহ সকল প্রকার নৌযান শ্রমিকরা একাত্বতা প্রকাশ করে ধর্মঘট পালন করছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে আশুগঞ্জের সাথে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ৬টি নৌ-রুটের লঞ্চ যোগাযোগ। এছাড়া কার্গো জাহাজ থেকে মালামাল খালাস বন্ধ থাকায় বিদেশ থেকে আমদানি করা ১১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার নিয়ে ১৮টি জাহাজ আশুগঞ্জ সার কারখানা ঘাটে আটকা পড়েছে। এতে করে কার্গো জাহাজ থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানায় সার সরবরাহ বন্ধ থাকায় সার সংকটের আশংকা রয়েছে।
 
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক একেএম হাবিবুল্লাহ বাহার জানান, জানুয়ারি মাসে নৌযান শ্রমিকেরা ১৫ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কর্মবিরতি পালন করে। পরে সরকার-নৌযান মালিক-শ্রমিক যৌথ সভায় সরকারি চাকুরিজীবিদের বেতনের সাথে সঙ্গতি রেখে নৌযান শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ ও অন্যান্য দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই শ্রমিকরা কেন্দ্রীয় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে ১৫ দফা দাবিতে অনিদিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে এবং দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।
 
পূর্বাঞ্চলীয় কার্গো মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মো. নাজমুল হোসাইন হামদু জানান, ধর্মঘটের কারণে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত জরুরি কাচাঁমাল নিয়ে জাহাজ আটকা পড়ায় মালামাল পরিবহণে ব্যাহত হচ্ছে। এ মুহূর্তে জাহাজ বন্ধ থাকলে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।