প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে হ্যান্ডসেটের কর কাঠামো: তারানা হালিম

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৬, ১৮:৫৬
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, 'সবার হাতে স্মার্ট মোবাইল হ্যান্ডসেটে পৌঁছে দিতে এ খাতের বিদ্যমান কর কাঠামো প্রতিবন্ধকতা তৈরী করছে।' শনিবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে  টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিবেদকদের সংগঠন টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে মোবাইল হ্যান্ডসেেটর ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।
 
মোবাইলফোন হ্যান্ডসেটের বিদ্যমান কর কাঠামো পুন:বিবেচনা করার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
 
তিনি বলেন,‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উপকরণ হ্যান্ডসেট ও টেলিকম নেটওয়ার্ক। বিভিন্ন ডিজিটাল সার্ভিস সেবা এ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে। আমাদের মোবাইল মার্কেট বড় হচ্ছে, স্মার্টফোন ব্যবহার বাড়ছে, ইন্টারনেটের ৯৫ শতাংশ বেশীর বর্তমানে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।’
 
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যত মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌছাবে, তত মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করবে এবং অন্যান্য ডিজিটাল সার্ভিস ব্যবহার করার ফলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। হ্যান্ডসেট আমদানি থেকে যে এক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয় তার চেয়ে বেশি আয় হতে পারে।’
 
টেলিযোগযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাজাহান মাহমুদ বলেন, শুধু মোবাইল হ্যান্ডসেট নয়, সুযোগ পেলে সব কিছু দেশে উৎপাদিত হবে না কেন?এই  মোবা্ইল ফোন আনতে হলে ২০ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয় আর তৈরী করার জন্য যন্ত্রপাতি নিয়ে আসলে খরচ হয় ৩৭ শতাংশের বেশি। যারা মোবাইল ফোন আমদানি করেন তারা দ্রুত এ বিষেয় আবেদন করেন, যেখানে যা প্রয়োজন আমরা করবো।’
IMG0
বাংলাদেশে মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব মানিক বলেন, ‘একটি ব্যবসা বান্ধব নীতিমালা দরকার। দুই বছর আগে ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ হ্যান্ডসেটে কর আরোপ করা হয় ফ্যাক্টরি হবে এই বলে, তবে তা হয়নি। হ্যান্ডসেট তৈরির জন্য কর কাঠামো কমালে আমরা এগিয়ে আসতে পারবো। ৫ শতাংশ কর করা হলে  আগামী তিন বছরে আমদানি নির্ভর দেশ থেকে বের হয়ে আসবো। গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলো এখানে আসতে শুরু করবে। ট্যাক্স ফ্রেন্ডলি হলে দেশে সব ধরণের ব্র্যান্ড তৈরি হবে।’
 
স্মাটফোনের যে ২০ শতাংশ গ্রোথ রয়েছে, করকাঠামো পুন:বিবেচনা করা হলে এ গ্রোথ আরো বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন মানিক।
 
বিএমপিআইএ সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘বর্তমানে দেড় কোটি হাতে স্মার্টফোন রয়েছে। কথা বলা নয় এই ডিভাইসে সব ধরনের কাজ করা হচ্ছে। দেড় কোটি স্মার্টফোন হওয়াতে যে অগ্রগতি হয়েছে তা যদি সবার হাতে এই স্মার্টফোন তুলে দেওয়া যায় তাহলে ৭ থেকে ৮ কোটির একটি বিশাল মার্কেট হবে। এজন্য একটি মাস্টার রোডম্যাপ দরকার, একটি নীতিমালা করা দরকার আগামী বছরগুলোতে আমরা কোন অবস্থানে থাকতে চাই।’
 
টিআরএনবি সভাপতি রাশেদ মেহেদির সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআরএনবি সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ।
 
সরকারের কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর মহাপরিচালক ড. মইনুল খান, ঢাকা কাস্টটম হাউজ কমিশনার লুৎফর রহমান, বিটিআরসি মহাপরিচালক কর্নেল নাসিম পারভেজ, অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) প্রতিনিধি এবং গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট এ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন  এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আবু সাঈদ খান সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।
 
বিটিআরসি সচিব সরওয়ার আলমসহ টেলিযোগাযোগখাতের সংশ্লিষ্ঠরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।