সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহে ঢাকা ও লন্ডনে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতা উপস্থিত ছিলেন। গ্রেফতারকৃত প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন বলে দাবি করেছে মামলার তদন্ত সংস্থা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে বিএনপির কোনো কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন এ ব্যাপারে কিছু বলতে অপারগতা জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রীপুত্র ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত শফিক রেহমানকে দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। শনিবার ছিল দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের প্রথম দিন।
মামলার তদন্তসূত্র জানায়, প্রথম দফায় রিমান্ডে শফিক রেহমান ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা কোনো প্রকার ভনিতা না করেই স্বীকার করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে কয়েকটি বিষয় তিনি স্পষ্ট করতে পারেননি। ওই বিষয়গুলোর ব্যাপারে তিনি বলেছেন, আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক গ্রেফতারকৃত মাহমুদুর রহমানই ভালো বলতে পারবেন। তবে বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য ২০১২ সালের ২৭ জানুয়ারি তিনি ঢাকা থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বিমান ভাড়া ও থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করেছিলেন বিএনপি নেতা ব্যবসায়ী মিল্টন ভূঁইয়া ( যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনে বসবাসকারী)। বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্র হয়ে লন্ডনে পৌঁছেন এবং সেখানেও তিনি বৈঠক করেছেন।
২০১৫ সালের ৪ মার্চ বুধবার নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন ফেডারেল আদালতের বিচারক ভিনসেন্ট এল ব্রিকেটি যে আদেশ দেন সেখানে তো শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের নাম নেই। গতকাল শনিবার ঢাকায় বিএনপি’র এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের রায়ে বাংলাদেশি একজনের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া ওই ঘটনার তদন্তকালে অভিযুক্তরা জবানবন্দি দিয়েছেন। ওইসব ডকুমেন্টেই শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের নাম রয়েছে। আর ওই সব ডকুমেন্টের ভিত্তিতেই শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি যে বক্তব্য দিয়েছে, তা রাজনৈতিক। আমরা ডকুমেন্টের ভিত্তিতে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ হলেই আমরা তা আদালতে উপস্থাপন করবো। তখনই বিষয়টি সত্যি কী মিথ্যা প্রমাণ হবে।
