রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের কাছেই এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের নাম। এমন ট্র্যাজেডি আর দেখতে চায় না বাংলাদেশ। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার তিন বছর পূর্তিতে শত কণ্ঠে এমন আহ্বানই জানানো হলো। সেই সঙ্গে দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা, প্রকৃত দাবিদারদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনায় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের লক্ষ্যে একটি নীতিমালার দাবিও উঠে।
তিন বছর আগে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহত হন ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক। আহত হন কমপক্ষে দেড় হাজার।
গতকাল রবিবার সাভারের দুর্ঘটনাস্থল, জাতীয় প্রেসক্লাব ও জুরাইন কবরস্থানে নিহতদের স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল ও জুরাইন কবরস্থানে ফুল প্রদান করা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ উপলক্ষে বিবৃতি দিয়েছে। তারা গার্মেন্টস খাতের শ্রম অধিকার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকের নিরাপত্তাকে টেকসই করতে আরো বেশকিছু কার্যক্রম বাকি রয়েছে বলে উল্লেখ করে। ইইউ বলেছে, ইপিজেডসহ গার্মেন্টস খাতে ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দেখতে চায়।
অন্যদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট বিবৃতিতে বলেন, শ্রমিকদের জোরালো ও শক্তিশালী মতামত প্রদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন গণতান্ত্রিকভাবে তাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য কমিটির প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। গার্মেন্টস খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।
গতকাল সকালে জুরাইন কবরস্থানে নিহত শ্রমিকদের স্মরণ, শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও শোক সভা করে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, জাতীয় শ্রমিক জোট, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনসহ বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল করে শ্রমিক সংগঠনগুলো।
এদিকে সাভারে প্রতিবাদী মিছিল, কার্টুন ও ছবি প্রদর্শনী, বিক্ষোভ-সমাবেশ, শোক শোভাযাত্রা, মোমবাতি প্রজ্বলন ও স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়েছে। রানা প্লাজার সামনে নির্মিত স্মৃতি স্তম্ভের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। একই সঙ্গে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-নেত্রী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন বেসরকারি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠন।
২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা, রানা প্লাজার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি পুনর্বাসন, নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান ও এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে গতকাল প্রতিবাদী মিছিল ও বিক্ষোভ চলে দফায় দফায়।
