অলক বিশ্বাস
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ২০১৬ সালে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ বিমান বাজারে ছেড়েছিল। এই মডেলের বিমান বাজারে ছাড়ার তিন বছরের মধ্যেই বিশ্ব বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছিল বোয়িং। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে ইন্দোনেশিয়া এবং ইথিওপিয়ায় দুই দুটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সাড়ে তিনশ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দারুণ চাপে পড়েছে বোয়িং। সর্বশেষ ইথিওপিয়ায় বিমান বিধ্বস্তে যাত্রী ও ক্রুসহ ১৫৭ জন মারা যায়। ৩৩টি দেশের ১৪৯ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু নিহত হয় এই দুর্ঘটনায়। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ছিল কেনিয়ার। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ বিমানটি রাজধানী আদিস আবাবা থেকে কেনিয়ার নাইরোবিতে যাচ্ছিল। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটি আকাশে উড়ার ছয় মিনিট পরই বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যায়নি।
ম্যাক্স স্পাইসের দুই দুটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই চাপ বাড়ছিল বোয়িংয়ের ওপর। নিজেদের বিমানের ত্রুটির কথা অস্বীকার করে আসছিল বোয়িং। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সে ব্যবহূত ৩৭১টি ম্যাক্স বিমানকে শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বোয়িংয়ের এই বিমানগুলো বাতিলের ঘোষণা দেন। বুধবার রাতে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)-র কাছে সমস্ত ম্যাক্স বিমান বসিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তারপরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ম্যাক্স বসিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলেন।
সর্বশেষ ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হবার পর অনেক বিমান সংস্থা এই মডেলের বিমান ওড়ানো বন্ধ করে দিয়েছিল। এর প্রযুক্তিতে কোনো সমস্যা আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তখনও বোয়িং কোম্পানি বলছিল, তাদের বিমান পুরোপুরিই নিরাপদ। তবে এফএএ বলছে, নতুন কিছু তথ্যপ্রমাণ ও উপাত্ত বিশেষণ করার পরই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সের কাছে থাকা তাদের ৩৭১টি বিমান গ্রাউন্ডেড করে দিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার জন্য বিশেষজ্ঞদের সন্দেহের তীর বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ এ থাকা ‘এ্যান্টি-স্টলিং সিস্টেম’ এর দিকে। এই স্বয়ংক্রিয় এ্যান্টি-স্টলিং সিস্টেম এমন একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে বিমান উপরের দিকে ওঠার সময় হঠাত্ থেমে যাওয়া থামানো যায়।
বিমান বিশেষজ্ঞরা জানান, একটি বিমান যখন ওপর দিকে উঠছে, তখন মাটির সাথে তার কোণ যদি খুব বেশি হয় অর্থাত্ বিমান যদি খুব বেশি খাড়াভাবে ওপর দিকে উঠতে থাকে তাহলে অনেক সময় বিমান থেমে যেতে পারে। সেটা ঠেকাতেই এই এ্যান্টি-স্টলিং সিস্টেম। তবে অনেক পাইলট অভিযোগ করেছেন, এই এ্যান্টি-স্টলিং সিস্টেমটা সক্রিয় হলেই তা বিমানটির নাক নিচের দিকে নামিয়ে দেয়। সেই সময়ে পাইলট দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ৩৭১টি ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানকে বন্ধ করার মধ্য দিয়ে হয়তো ভবিষ্যতের কিছু ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো গেল।
