পিছিয়ে যাচ্ছে ব্রেক্সিট!

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯, ২২:১৮

এম এ আল আমিন

 

ব্রেক্সিট বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার সময়সীমা বাড়ানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ব্রিটিশ এমপিরা। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ৪১২-২০২ ভোটে এ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন এ বিষয়ে তার চুক্তিটি অনুমোদন করা না হলে তিনি ৩০ জুন পর্যন্ত ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে রাজি আছেন।

আগেই বলা হয়েছিল ২৯ মার্চের মধ্যে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে যুক্তরাজ্য। হাতে মাত্র ১৫ দিন সময় থাকতে সময়সীমা বাড়ানোর পক্ষে রায় দিলেন আইন প্রণেতারা। বিষয়টি ব্রেক্সসটেনশন নামে পরিচিতি পাচ্ছে। এ দিকে ইউরোপিয়ান কমিশনের একজনের মুখপাত্র বলেছেন, আর্টিকেল ৫০ অনুযায়ী ইইউ ছাড়ার পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমা যদি যুক্তরাজ্য বদলাতে চায় তবে এক্ষেত্রে জোটের সবগুলো দেশের সমর্থন প্রয়োজন হবে। এর আগে চলতি সপ্তাহেই মে’র প্রত্যাহার চুক্তিটি ৩৩৪-৮৫ ভোটে দ্বিতীয়বারের মতো পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছেন। ব্রেক্সিট নিয়ে তার নতুন পরিকল্পনাটি এমপিরা যেন অনুমোদন করেন তার জন্য তিনি উদাত্ত আহবান জানালেও তারা সাড়া দেননি। ৯ মার্চ গ্রিমসবেতে মে এমপিদের পুরনো তিক্ততা ঝেড়ে ফেলে ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনার আহবান জানিয়েছিলেন। তিনি একই সঙ্গে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সীমান্ত (আইরিশ ব্যাকস্টপ) নিয়ে চলমান অচলাবস্থা নিরসনের জন্য আরও নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা ইইউকে মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেছিলেন, ‘পরিকল্পনাটিতে আপনারা সমর্থন দিন, ব্রিটেন ইইউ থেকে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে আসুক। যদি আপনারা এটি সমর্থন না করেন তবে কোনো চুক্তি ছাড়াই আমাদের বেরিয়ে আসতে হতে পারে অথবা এমনও হতে পারে যে কোনো চুক্তিই হলো না। তখন ইইউ থেকে বেরোনোর পর ব্রিটেনের স্বার্থ রক্ষার কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না। অথবা ব্রেক্সিট নাও হতে পারে। ’ তিনি এমপিদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৩ কোটি ৩৫ লাখ মানুষ তাদের মত জানিয়ে দিয়েছিল। সেটি ছিল ইইউ ত্যাগ করা। মে বলেন, ‘এটি কেবলমাত্র পার্লামেন্ট বা মন্ত্রী ও এমপিদের নিজস্ব বিষয় নয়, এটি পুরো দেশের ব্যাপার।’ যা হোক শেষ পর্যন্ত এ সব কথা কাজে আসেনি।

ইইউর কাছ থেকে আর্টিকেল ৫০ বর্ধিতকরণ অনুমোদন করিয়ে নেওয়াই এখন মে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এটি করতে পারলে ব্রেক্সিট চুক্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে ব্রিটেন কয়েক মাস সময় হাতে পাবে। এ দিকে ইইউ ত্যাগ বা লিভ ডট ইইউ ক্যাম্পেনের নেতা নাইজেল ফারাজ ব্রিটিশ ব্যবসায়ী অ্যারন ব্যাঙ্কসের কাছ থেকে ৮.৪ মিলিয়ন পাউন্ড ডোনেশন নিয়েছেন; যা নিয়ে ইউকে ইলেক্টোরাল কমিশন এখন তদন্ত করছে। ব্যাংক, বিমা ও খনির ব্যবসা রয়েছে অ্যারন ব্যাঙ্কসের। তার দেয়া অর্থের উত্স নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। কারণ তিনি অর্থের উত্স প্রকাশ করেননি। ব্যাঙ্কস অভিযোগ করেছেন ব্রেক্সিট বিরোধীদের প্ররোচনায় কমিশন তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন। তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন।