মন্ত্রিসভা বৈঠকে উচ্চতর আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগ তদন্তের বিধান রেখে ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারক (তদন্ত) আইন, ২০১৬’ এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রস্তাবিত আইনে উচ্চতর আদালত অর্থাৎ আপিল বিভাগ ও সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের একজন বিচারকের ‘সম্মানজনক প্রস্থান’ করার জন্য একটি বিধি রয়েছে, যখন তিনি তাঁর কোন ‘অসদাচরণের’ জন্য দোষী সাব্যস্ত হবেন।
বৈঠকের পর কেবিনেট সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গৃহীত ষোড়শ সংশোধনী অনুযায়ী সংবিধানের ৯৬ (৩) ধারায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ খসড়া আইনটি উপস্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, সংশোধনীতে ৯৬ ধারার ২,৩ ও ৪ উপ-ধারার পরিবর্তে উপ-ধারা ২,৩, ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮ সংশোধন করে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, সুপ্রীম কোর্টের কোন বিচারকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উত্থাপিত হলে তদন্ত পরিচালনা করা এবং অভিযোগ তদন্ত করতে একটি আইন প্রণয়নের জন্য একটি বিধি রয়েছে।
তিনি বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী এই আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে।
কেবিনেট সচিব বলেন, সারা বিশ্বের অন্যান্য সকল গণতান্ত্রিক দেশের মতোই সুপ্রীম কোর্টের বিচারকদের অপসারণ সংক্রান্ত আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের মূল আইনে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে খসড়া আইনটি অনুমোদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে অনুরূপ একটি আইন ছিল এবং সুপ্রীম জুডিসিয়িাল কাউন্সিল গঠনের বিধি যুক্ত করার মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের পর তা পরিবর্তন করা হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, একমাত্র পাকিস্তান ছাড়া কোন দেশেই এখন এই ধরণের কাউন্সিল নেই।
আলম বলেন, খসড়া আইন অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্টের কোন বিচারকের অসদাচরণের বিরুদ্ধে যে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
স্পিকার অভিযোগের কোন ভিত্তি থাকলে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য অনধিক ১০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে একটি ‘সংসদীয় কমিটি’ গঠন করবেন। কমিটি সাত দিনের মধ্যে স্পিকারের কাছে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট পেশ করবে।
কেবিনেট সচিব বলেন, অভিযোগের যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি থাকলে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একজন সাবেক এটর্নি জেনারেল ও একজন বিশিষ্ট নাগরিককে বা একজন জুরিস্টকে সদস্য করে অভিযোগ তদন্ত করার জন্য একটি তিন সদস্যের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করবেন।
আলম আরো বলেন, তদন্ত শেষ হলে জাতীয় সংসদ কমিটির পেশ করা রিপোর্টের ওপর আলোচনা করবে। তিনি বলেন, দোষী সাব্যস্ত হলে একজন বিচারককে অপসারনের জন্য জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদিত সুপারিশ মাননীয় রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের কোন বিচারকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দুই বছরের কারদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।
আপিলেট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর খসড়া আইনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, খসড়া আইনে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের আরো সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করার এখনও সুযোগ রয়েছে।
আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আরো আলোচনার পর খসড়া আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবার মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
