জব্বারের বলীখেলা: দিদারকে হারিয়ে প্রথমবারেই চ্যাম্পিয়ন শামসু

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৬, ২০:৪৮
 
চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলায় এ বছর বিজয়ী হয়েছেন টেকনাফের শামসু বলী। খেলায় রানারআপ হন রামুর দিদার বলী। সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে লালদীঘি মাঠে শুরু হয় বৈশাখী মেলার মূল আকর্ষণ বলী খেলা প্রতিযোগিতা। টানটান উত্তেজনার এ বলীখেলায় ২৭ মিনিট ২১ সেকেন্ড প্রাণপণ লড়াই করেন দুই বলী। কিন্তু তারপরও কেউ কারও কাছে হার মানতে নারাজ। পরে খেলার রেফারি ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা আলোচনা করে শামসু বলীকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
 
এদিকে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ বলীখেলা উপভোগ করকে হাজার হাজার দর্শক ভিড় জমান লালদীঘি ময়দানে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নাহি রাজি! ১২ বারের চ্যাম্পিয়ন রামুর দিদার বলী লালদীঘির বলী খেলার মঞ্চে যদি টেকনাফের নবাগত শামসু বলীকে মাটিতে ফেলে দেন। শামসু বলীও ছাড় দিতে রাজি নয়। ঠিক পরক্ষণেই চেপে ধরে দিদার বলীকে পরাস্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এভাবে হাজার হাজার দর্শকের তুমুল করতালিতে চলতে থাকে প্রায় ৩৪ মিনিটের ধরে দুই বলীর লড়াই। এরমধ্যে তাদের মধ্যে মূল লড়াই চলে ২৭ মিনিট ২১ সেকেন্ড। ততক্ষণে রেফারি ও কুস্তি প্রতিযোগিতার কমিটি ঘোষণা দেন কেউ কাকে যদি হারাতে না পারে তাহলে ফেয়ার কুস্তিগিরিকেই এবার চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে। একথা শুনেই নিজের মুকুট ধরে রাখতে দিদার বলী নীতি বিরোধী খেলা শুরু করেন। এরপর মঞ্চ থেকে নেমে ম্যাচ রেফারি আব্দুল মালেক প্রধান অতিথি আ জ ম নাছিরের সাথে আলাপ করে টেকনাফের শামসু বলীকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন।
 
এর মধ্য দিয়েই ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১০৭ তম আসরের চ্যাম্পিয়নের মুকুট নিজ মাথায় তুলেন শামসু বলী। পাশাপাশি নিজের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট বিসর্জন দিতে হয়েছে দিদার বলীকে। পরে চ্যাম্পিয়ন শামসু বলী ও রানার আপ দিদার বলীকে ট্রাফি ও নগর অর্থ পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এছাড়া অংশগ্রহণকারী অন্য বলীদেরও পুরস্কার দেয়া হয়। প্রতিবছর ১২ বৈশাখ চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই খেলা, যাকে ঘিরে বৈশাখী মেলাও গড়ে উঠেছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য আব্দুল জব্বার সওদাগর নামে এক ব্যবসায়ী এই খেলাটি শুরু করেন,যেটি এখনো জব্বারের বলী খেলা নামেই পরিচিত। এই প্রতিযোগিতায় ১৩ বার চ্যাম্পিয়ন হবার কারণে দিদারুল আলম ‘দিদার বলী’ নামেই বেশি পরিচিত ছিল।গত ১৫ বছরের মধ্যে যে দু’বার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দিদার বলীর নাম নেই সে দু’বার তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেননি। মাঝখানে দুই বছর অর্থাত্ ২০১২ এবং ২০১৩ সালে তিনি খেলতে পারেননি। এবারই বিগত ১৫ বছরের রেকর্ডকে ভেঙে টেকনাফের শামসু বলী চ্যাম্পিয়ন হন।