ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর আরোপিত ভ্যাট মওকুফের দাবি

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৬, ১৩:৫৩
 
ইন্টারনেট ও মডেম ব্যবহারের ওপর আরোপিত ভ্যাট মওকুফের দাবি জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ(অ্যামটব)। পাশাপাশি সিম ও রিম কার্ডের শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব দাবি জানান অ্যামটব প্রতিনিধিরা।
 
বর্তমানে ইন্টারনেট ও মডেম ব্যবহারের জন্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। সভায় বক্তব্যে অ্যামটব মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির বলেন, 'সকল পর্যায়ে ইন্টারনেট বা মডেম ব্যবহারের ওপর ভ্যাট মুওকুফ করা হোক।'
 
এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ইন্টারনেট বা মডেম ব্যবহারের ওপর ভ্যাট উঠিয়ে নিলে সাধারণ মানুষের কাছে তা সহজলভ্য হবে। এর ফলে অপারেটরদের আয় বৃদ্ধি এবং তথ্য প্রযুক্তির প্রসার ত্বরান্বিত হবে।
 
চলতি বছর মার্চ শেষে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির তথ্য হিসেবে, বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৬ কোটি ১২ লাখ ৮৮ হাজার। ফেব্রুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৮৩ লাখ, আর জানুয়ারিতে ৫ কোটি ৬১ লাখ। গতবছর মার্চে বাংলাদেশে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৬২ হাজার মানুষ ইন্টারনেট সেবা কিনতেন। এই হিসেবে বছরে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। বিটিআরসির তথ্যে দেখা যায়, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৯৫ শতাংশ এ সেবা নিচ্ছেন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।
 
প্রাক-বাজেট সভায় অ্যামটবের পক্ষ থেকে সিম/রিম কার্ড এবং স্ক্র্যাচ কার্ডের শুল্ক কমানোর প্রস্তাব রেখে বলা হয়, শুল্ক কমে গেলে মোবাইল অপারেটররা প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশব্যাপী ব্যবসা সম্প্রসারণে সক্ষম হবে। এর ফলে পরিকল্পিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের কাজ আরও বেগবান হবে।
 
বতর্মানে সব মোবাইল অপারেটরদের প্রতিটি সিম বা রিম বিক্রির জন্য ৩৬ দশমিক ৬৫ টাকা ভ্যাট এবং ৬৩ দশমিক ৩৫ টাকা সম্পূরক শুল্ক দিতে হয়, যা সম্মিলিতভাবে সিমট্যাক্স (১০০ টাকা) হিসেবে ধরা হয়।
 
এই সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে অ্যামটব প্রতিনিধিরা বলেন, দেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ এখনও মোবাইল ব্যবহার করে না। দেশে প্রকৃত মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪২ শতাংশ। বিডি নিউজ।