ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তনয় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আরও কিছু আলামত পাওয়া গেছে। জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনার পাশাপাশি আরো কয়েকটি দিক তারা খতিয়ে দেখছেন যা এখনই বলা সম্ভব নয়। বুধবার নিজের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'তারা (নিহতরা) একটি সংগঠন করত। সেখানে কোনো আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সমস্যা অথবা কোনো সংঘবদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী ঘটনাটি ঘটিয়েছে কি না কোনো সম্ভানা উড়িয়ে দিচ্ছি না।
তিনি বলেন, 'তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। দুই-চারদিন গেলেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারব। কাউকে সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে না। সব ডাইমেনশন মাথায় নিয়ে এগোচ্ছি।'
সোমবার বিকালে কলাবাগানের লেকসার্কাসে নিজের বাসায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় ইউএসআইডির কর্মকর্তা জুলহাজ ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী তনয়কে। সমকামীদের অধিকারের পক্ষের সাময়িকী ‘রূপবান’ সম্পাদনায় যুক্ত ছিলেন জুলহাজ।
হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচ থেকে সাতজনকে ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে বলতে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যেতে দেখার কথা জানিয়েছেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী। তারপরেও এ ঘটনায় আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সন্দেহে রাখার কারণ ব্যাখ্যায় ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'তদন্তের স্বার্থে আরও কিছু কথা আপনাদের বলতে পারছি না। আমরা আরও কিছু আলামত পেয়েছি। একজন হত্যাকারী এমন ঘটনা ঘটাতে পারে যাতে তার দায় এড়িয়ে ঈঙ্গিত যেন অন্যদিকে যায় সেটিও তো হতে পারে।'
আছাদুজ্জামান বলেন, 'তদন্তকারী অফিসার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এর যৌক্তিকতা ও সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। একজন খুন করে অন্যকে ফাঁসানোর জন্য অন্য ধরনের ডাইমেনশন দেবার একটি অপচেষ্টাও হতে পারে। বাট বিষয়টা হলো তদন্তের বিষয়, বাস্তবতার বিষয়, যুক্তির বিষয়। প্রত্যেকটির তদন্ত হচ্ছে। হত্যার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, কারা জড়িত ছিল তা খুঁজে বের করব।'
সেদিনের ঘটনার বিবরণে তিনি বলেন, সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এক লোক কুরিয়ার সার্ভিসের একটা আইডি কার্ডসহ দুটি পার্সেল নিয়ে কলাবাগানের ওই বাড়িতে যায়।
তিনি বলেন, সে গিয়ে রিসিপশনে বলেছে যে, জুলহাজ মান্নানের সঙ্গে কথা হয়েছে। এরপর জুলহাজ নিচে নেমে এসেছে। ওই লোককে নিয়ে ওনার বাসায় গেছে। তখন মেইন গেইটের কলাপসিবল গেইট দিয়ে চারজন হঠাৎ ঢুকে পড়ে। তিনজন দারোয়ান তাদের বাধা দিলে দুইজনকে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং গেইটের পাশে একটি রুমে তালাবন্ধ করে রাখে।
ঘটনার খবর পেয়ে সাত মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, 'সেখানে একজন এসআই ও এএসআই মমতাজ তাদের প্রতিরোধ করে। তখন মমতাজকে সন্ত্রাসীরা চাপাতি দিয়ে কোপায়। সন্ত্রাসীরা চলে গেলেও পুলিশ তাদের একটি ব্যাগ রেখে দিতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে একটি পিস্তল, একটি মোবাইল, কিছু আরবি লেখা কাগজপত্র পাওয়া গেছে। যে পথ দিয়ে গিয়েছে সেখানের কিছু ফুটেজও পাওয়া যায়, সেটি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।' বিডি নিউজ।
