হরিজন শিশুকে যৌন হয়রানী, বিনা'র বৈজ্ঞানিক সহকারী বরখাস্ত

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৬, ১৩:১২
 
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিনা) ঈশ্বরদী উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক সহকারী (এসএ-২) সোরহাব হোসেনকে এক হরিজন শিশুকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। যৌন হয়রানীর ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যেই ফেসবুক ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
 
এদিকে এই ঘটনার বিচার দাবি করে গত মঙ্গলবার বিনা উপকেন্দ্রের অস্থায়ী নারী শ্রমিক ক্লিনার (হরিজন) শিশুটির মা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন দাখিল করেন। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিনা) প্রধান কার্যালয় হতে তাৎক্ষনিকভাবে ওই বৈজ্ঞানিক সহকারীকে বরখাস্ত এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
 
হরিজন সম্প্রদায়ের শিশুটির মা জানান, তিনি এই প্রতিষ্ঠানে ক্লিনার পদে অস্থায়ী নারী শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। সাত বছর বয়সী তার এই মেয়েটি ঈশ্বরদীর একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। বিদ্যালয় ছুটি থাকলে মেয়েটি প্রায়ই তাঁর সাথে বিনা অফিসে আসে এবং আশে পাশে খেলাধুলা করে। ১০-১২ দিন আগে সে অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকাকালীন সময়ে বিনার সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সোরহাব হোসেন মেয়েটিকে তার আবাসিক কোয়াটারে নিয়ে নানাভাবে যৌন হয়রানী এবং এই দৃশ্য ভিডিও  করে। পরে এই ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
 
মেয়েটির মার সাথে কথা বলার সময় তাকে অত্যন্ত ভীত ও সন্ত্রস্ত দেখা যায়। তিনি এই ঘটনার বিচার চেয়ে মঙ্গলবারই ঈশ্বরদী উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার সকালে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. রোকনুজ্জামান জানান, মায়ের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বৈজ্ঞানিক সহকারী সোরহাব হোসেন গত ১৯ এপ্রিল থেকে প্রথমে তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি এবং পরে আরো ১৫ দিনের স্ব-বেতনে ছুটি নিয়েছেন। এখন সে নিজ গ্রামের বাড়ি নাটেরে অবস্থান করছেন বলে তিনি জানান।
 
বিনায় কর্মরত শ্রমিকরা জানান, ঘটনাটি ১৮ এপ্রিল জানাজানির পর হতেই সোরহাব কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও নারী ঘটিত অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সত্যতা জানতে মুঠোফোনে সোরহাব হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
 
বুধবার দুপুরে বিনা উপকেন্দ্র ঈশ্বরদীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. রোকনুজ্জামান জানান, ২৬শে এপ্রিল লিখিত অভিযোগে পাওয়ার সাথে সাথে অভিযোগটি হেড অফিসে ফরোয়ার্ড করে দেয়া হয়। হেড অফিস তাৎক্ষনিক ভাবে ওই দিনই সোরহাব হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।