বাকি উপজেলা নির্বাচনও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা ভোটারদের

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৬

প্রথম দফায় ভোট শেষে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন। এ দিকে, এবারই প্রথম স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলা নির্বাচনে কার্যত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি দল ছাড়া অন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো ভোটে নেই। বেশির ভাগ দল অংশ না নেওয়ায় প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অতীতের তুলনায় এবার আগ্রহ কম পরিলক্ষিত হয়েছে। নির্বাচনে মূলত আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগই। অন্যদিকে, আজকের দ্বিতীয় ধাপসহ অবশিষ্ট দুটি ধাপের নির্বাচনও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে প্রার্থীসহ ভোটাররা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। উল্লেখ্য, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ ও চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা ইত্তেফাককে জানান, নিজস্ব দলীয় বাহিনীর পাশাপাশি নানা বাহিনী দিয়েও নির্বাচনী প্রচারণায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। বাধা দেওয়া হচ্ছে পোস্টার লাগানোয়। কোথাও কোথাও শুধু ভোটারদেরই নয়, খোদ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকেও কেন্দ্রে যেতে বারণ করার ঘটনা ঘটছে। কেউ কেউ সরকারি গাড়ি প্রচারণায় ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ ও নিজের ভোট রক্ষা হবে কি-না, সেটা নিয়েই শঙ্কিত অনেক প্রার্থী ও ভোটাররা।

মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দলটির চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল্লাহ মিয়া রতন শিকদার বলেন, এই উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুস সালাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। উপজেলা চেয়ারম্যানের দপ্তরে দলীয় লোক নিয়ে সভা করেন। এটা বন্ধ করতে হবে।

কুমিল্লার আট উপজেলায় নির্বাচন হবে চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ। গত শনিবার কুমিল্লার আটটি উপজেলা পরিষদের প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সভায় কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুস সালাম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের  চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে বিশেষ বাহিনী দিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা একটি উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী তাজুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগে থেকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী পোস্টার লাগিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। লুটেরচর ইউনিয়নে তিনি পোস্টার লাগাতে দিচ্ছেন না। এই নির্বাচনে রাতের অন্ধকারে ব্যালটে সিল মারা হতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ভোটার আতিকুর রহমান ঢাকায় একটি বীমা কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার একজন চাচাতো ভাই চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোট উপলক্ষে তিনি গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার আগে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, তিনি ভোট দেবেন, তবে সেই ভোটের ফল রক্ষা করতে পারবেন কি না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তার অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন নানা কারণে পক্ষ-বিপক্ষ নিচ্ছে। নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে তার মূল্যায়ন, আগে এই ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় গ্রামাঞ্চলে যে ধরনের উত্সব দেখা যেত এখন উল্টো একটা ভীতির পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, বেশির ভাগ প্রার্থী ও ভোটাররা তা বিশ্বাস করেন না বলে জানান এই বীমা কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাচনও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের এমন গণশঙ্কার বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও পরিবেশের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন তার চিরাচরিত চরিত্র হারিয়ে ফেলেছে। যেখানে ভোট সুষ্ঠু করার প্রধান দায়িত্ব থাকে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের, সেখানে এই দুটির ওপরই এখন প্রার্থী ও ভোটারদের সবচেয়ে বেশি সন্দেহ। যেখানে নির্বাচনের জন্য এ দেশের মানুষ মুখিয়ে থাকে, ভোট এলে উত্সবে মাতে- সেখানে ভোটাররা এখন কেন্দ্রবিমুখ। নির্বাচন সম্পর্কে মানুষের সামগ্রিক আস্থার সংকট ও হতাশা থেকেই এমন হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।