মুন্সীগঞ্জে মেঘনার বালু মহাল ইজারায় আপত্তি জানিয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯, ২৩:৫১

মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীর ছয়টি বালু মহাল ইজারায় আপত্তি জানিয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই ছয় বালু মহাল ইজারা প্রদান করা হলে পরিবেশের ক্ষতিসহ নানারকম সমস্যার সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আফসারউদ্দিন ভূঁইয়া সম্প্রতি জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত এক চিঠিতে বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে বালু মহালগুলো ইজারা না দেওয়ার জন্য আবেদন জানান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মেঘনা নদীর মুন্সীগঞ্জ বালু মহাল, মধ্যচর রমজানবেগ বালু মহাল, চর আব্দুল্লাহ বালু মহাল, নয়ানগর রমজানবেগ ষোলআনিচর কালিপুরা বালু মহল, চর নাস্তি আশ্রাবদি ও চর বেতাকী বালু মহাল এবং ঘাটপাড়া  ও শেখদি বালু মহাল ইজারা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এসব বালু মহালে স্বাভাবিক গভীরতায় এখন আর বালু নেই। কাজেই ইজারা দেওয়া হলে এ সব বালু মহাল থেকে বালু উত্তোলন করার পর মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো নদী ভাঙনের মুখে পড়বে এবং এতে বসত-ভিটা, ফসলি জমি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর তখন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর সঙ্গে বালু মহালের ইজারাদারদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে এবং জানমালের ক্ষতিসাধনও ঘটতে পারে। তাই এসব বালু মহাল ইজারা না দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন জানানো হয়েছে ওই পত্রে। আফসারউদ্দিন ভূঁইয়া জানান, যে বালু মহালগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোতে এক সময় বালু থাকলেও এখন আর নেই। এখন ঐ বালুমহলগুলো ইজারা দেওয়া হলে রাতের আঁধারে  আশপাশের নদীতীরের বালু কেটে নেওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। এছাড়া তীর ঘেঁষে নদীর গভীর থেকে বালু কাটা হলে নদীর পাড় ভেঙে যাবে। এতে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। এ বিষয়ে সদর ইউএনও ফারুক আহমেদ বলেন, এই বালু মহালগুলো জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা থেকে ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে। সদর উপজেলার যে বালুমহালগুলোর বিষয়ে বলা হয়েছে সেগুলো সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।