খুলনা-মংলা রেল লাইন প্রকল্পের কাজ শুরু

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৬, ১৯:০৭
খুলনা-মংলা রেল লাইন প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। রূপসা সেতুর অদূরে রেলসেতু নির্মাণের প্রকল্প এলাকায় চলছে সয়েল টেস্টের কাজ। শীঘ্রই ভারতের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই রেললাইন নির্মাণ কাজ শুরু করবে।
 
রূপসা রেলসেতু নির্মাণ কাজের সাব-কন্ট্রাক্টর গৃহায়ন লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান জানান, গত ১৪ এপ্রিল থেকে সয়েল টেস্টের কাজ শুরু হয়। রেলসেতু নির্মাণের জন্য রূপসা নদী এবং নদীর দুই পাড়ের ১৪৪টি স্থানে সয়েল টেস্ট করা হবে। ইতোমধ্যে ৮টি স্থানে সয়েল টেস্টের কাজ শেষ করা হয়েছে। আরও ৮টি স্থানে বোরিংয়ের কাজ চলছে। দেড় মাসের মধ্যে সয়েল টেস্টের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে সময় আরও বেশি লাগতে পারে বলে তিনি জানান।
 
প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রহিম জানান, খুলনা-মংলা রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে রূপসা নদীতে রেলসেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ভারতের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লারসেন এন্ড টার্ব সয়েল টেস্টের কাজ শুর করেছে। এরপর পাইলিংয়ের কাজ শুরু হবে।
 
কাজ শুরুর বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল আহসান জানান, খুলনা-মংলা রেল সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে লুপ লাইনসহ রেলওয়ে ট্র্যাকের দৈর্ঘ্য ৮৬ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ হবে। এর মধ্যে রূপসা নদীর উপরে হযরত খানজাহান আলী সেতুর দেড় কিলোমিটার দূরে যুক্ত হবে ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার রেল সেতু। এছাড়া ২১টি ছোটখাট ব্রীজ ও ১১০টি কালভার্ট নির্মিত হবে। ফুলতলা থেকে মংলা পর্যন্ত ৮টি স্টেশন হবে। স্টেশনগুলোর মধ্যে ফুলতলা, আড়ংঘাটা, মোহাম্মদ নগর, কাটাখালী, চুলকাঠি, ভাগা, দিগরাজ ও মংলা।
 
এই প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন , এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে ২১ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে আগামী ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে রেললাইনের জন্য ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ এবং ব্রিজের জন্য ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বাকী টাকা জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় হবে।
 
বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) ও ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় এই রেলপথটি নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের রেললাইন তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর ভারতের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইরকন-এর সাথে চুক্তি হয়েছে। আর ব্রিজ তৈরির জন্য ওই বছরের ২৪ আগস্ট ভারতের লারসেন এন্ড টার্ব নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হয়।
 
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) খুলনা-মংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। পরে ২০১২ সালের নভেম্বর প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পায় ভারতের সিইজি নিপ্পন কোয়ি জেভি প্রতিষ্ঠান।