রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ড: বাগমারা থেকে বাবা-ছেলেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৬, ২০:৩৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজীর বিভাগের অধ্যাপক এএফএম রেজাউল করিম মুকুল হত্যার ঘটনায় তার নিজ উপজেলা বাগমারার শ্রীপুর থেকে শুক্রবার ভোরে বাবা ও ছেলেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
পরিবার বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে তাদের তুলে নেয়া হতে পারে। এরা হলেন, বাগমারা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল হাকিম (৬৩) ও তার ছেলে বাগমারা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম।
 
আবদুল হাকিমের ছোট ভাই ইসাহাক আলী ও শ্রীপুর গ্রামের ১০/১২ বাসিন্দা জানান, আবদুল হাকিমের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম (২৫) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি দেড় বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন। তার কোনো খোঁজখবরও জানে না পরিবারের সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয়েও যান না। এ কারণে সে তৃতীয় বর্ষের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশও নিতে পারেননি।
 
ইসাহাক আলী আরো জানান, ভোরে তার ভাই (আবদুল হাকিম) ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বাড়ির পাশের মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ১৫/১৬ জনের একদল লোক বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা ভাইকে ও তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা বাড়ির সবার মোবাইল ফোনও জব্দ করে নিয়ে গেছে।
 
ইসাহাক আলীর ধারণা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের তুলে নেয়া হতে পারে।
 
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, শ্রীপুর থেকে দুজনকে ধরে নেয়ার বিষয়টি জানা নেই। বাগমারা থানা পুলিশ কাউকে আটক করেনি। রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন বাগমারা থেকে দুইজনতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি তাদের নাম-পরিচয় জানাননি।